এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেল জাতিসংঘের অঙ্গ সংস্থা বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। সংঘাত ও যুদ্ধকবলিত এলাকাগুলোতে ক্ষুধা নিরসনে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরুপ এই নোবেল দেওয়া হয়।
শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) নরওয়ের স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা) রাজধানী অসলো থেকে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এবারের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে।
নোবেল কমিটি বলছে, ক্ষুধার বিরুদ্ধে লড়াই, শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধ-সংঘাত কবলিত এলাকার পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং যুদ্ধ ও সংঘাতের অস্ত্র হিসেবে ক্ষুধাকে ব্যবহার রোধ করতে চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করার জন্য ক্ষুধার বিরুদ্ধে অব্যাহত লড়াই প্রচেষ্টার স্বীকৃতিস্বরুপ সংস্থাটিকে এবার শান্তিতে নোবেল দেয়া হলো।
আরও বলেছে, ২০২০ সালের নোবেল বিজয়ী বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি খাদ্য সুরক্ষাকে শান্তির উপকরণ হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বহুপাক্ষিক সহযোগিতায় মূল ভূমিকা পালন করেছে এবং যুদ্ধ ও সংঘাতের অস্ত্র হিসাবে ক্ষুধার ব্যবহারকে মোকাবেলায় জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহকে একত্রিত করার জন্য জোরালো অবদান রেখেছে।
নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির চেয়ারম্যন বেরিট রেইস- অ্যান্ডারসন শান্তিতে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আন্তর্জাতিক সংহতি ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার প্রয়োজন আগের তুলনায় আরও স্পষ্ট ও দৃশ্যমান হওয়া প্রয়োজন।”
সংগঠন ও সংস্থার মধ্যে সর্বোচ্চ তিনবার নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছে আন্তর্জাতিক রেডক্রস। ১৯১৭, ১৯৪৪ ও ১৯৬৩ সালে রেডক্রসকে শান্তিতে নোবেল দেয়া হয়। এছাড়া ১৯৫৪ ও ১৯৮১ সালে শান্তিতে নোবেল পেয়ে এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর।
নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য এখন এক কোটি সুইডিশ ক্রোন; যা প্রায় ১১ লাখ মার্কিন ডলার অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯ কোটি ৩২ লাখ টাকারও বেশি। আগামী ১০ ডিসেম্বর নরওয়ের রাজধানী অসলোতে পুরস্কার প্রদান করা হবে।
২০১৯ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পান ইথিওপিয়ার সংস্কারপন্থী প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ। মূলত দুই দশক ধরে প্রতিবেশী ইরিত্রিয়ার সঙ্গে চলা যুদ্ধের অবসান ও দেশটির মধ্যে জাতিগত সংঘাত নিরসনের ইথিওপিয়ার আমূল সংস্করের কারিগর হিসেবে তাকে শান্তিতে নোবেল দেয়া হয়।
এমবি





