মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানের জন্য আনা আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা রেড ক্রিসেন্টের ত্রাণ খালাসকালে হামলা চালিয়েছে একদল সশস্ত্র বৌদ্ধ সন্ত্রাসী।
এর ফলে মিয়ানমার সরকার ত্রাণ সংস্থাগুলোকে নিরাপদে কার্যক্রম চালানোর প্রতিশ্রুতি দেয়া সত্ত্বেও রাখাইনে আটকাপড়া কয়েক লাখ রোহিঙ্গা মুসলমানকে সহায়তা দেয়া বিঘ্নিত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুধবার রাতে রাখাইনের রাজধানী সিত্তের বন্দর থেকে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে একটি নৌকা সেনা অভিযানে আক্রান্ত মংডুতে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়ার সময় প্রায় ৩০০ জনের একটি সশস্ত্র বৌদ্ধ সন্ত্রাসী দল এতে বাধা দেয়।
তারা ত্রাণবোঝাই করতে ও তা নিয়ে মংডুর উদ্দেশে নৌকা ছেড়ে যেতে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটিকে (আইসিআরসি) বাধা দেয় বলে মিয়ানমারের তথ্য কমিটিকে উদ্ধৃত করে বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার।
বৌদ্ধ মঙ্কদের নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র দলটি বন্দরের জেটির কাছাকাছি পৌঁছে গেলে ঘটনাস্থলে পুলিশ ছুটে এসে তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে। এ সময় তারা দাঙ্গা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ও হাতবোমা ছুড়ে মারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সন্ত্রাসীদের হামলায় বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয় এবং এ সময় আটজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
আইসিআরসি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। তবে সংস্থাটি বলছে, তারা সংঘাতপ্রবণ এলাকায় রোহিঙ্গা মুসলমানদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের চেষ্টা চালিয়ে যাবে।
আইসিআরসি এশিয়া অঞ্চলের মুখপাত্র গ্রাজেইল্লা লেইতে পিক্বলি এএফপিকে তিনি বলেন, আমরা কোনো কিছুই বন্ধ করিনি, আমরা কাজ চালিয়ে যাব।
গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা পুলিশ চৌকি ও সেনাশিবিরে হামলা চালায়। এতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে শতাধিক নিহত হন, যাদের মধ্যে ১২ জন পুলিশ ও নিরাপত্তা সদস্য, বাকিরা রোহিঙ্গা বিদ্রোহী।
এ সংঘর্ষকে ঘিরে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী রোহিঙ্গাদের গ্রামগুলোতে অভিযান চালাচ্ছে। তারা বেসামরিক রোহিঙ্গাদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি করছে এবং তাদের গ্রামগুলো আগুনে পুড়িয়ে দিচ্ছে।
জাতিসংঘ মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বরতাকে জাতিগত নিধন অভিযান বলে আখ্যা দিয়ে বলেছে- এ পর্যন্ত তিন হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন এবং সোয়া চার লাখেরও বেশি মানুষ পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।
এমএ





