যুক্তরাষ্ট্রে নতুন প্রেসিডেন্টের মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়েই থাকে। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইতিহাসের সর্বনিকৃষ্ট’ মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন বলে সম্প্রতি ওয়াশিংটন পোস্টের এক নিবন্ধে বলা হয়েছে।
ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্যই ধনকুবের ব্যবসায়ী বা সেনাবাহিনীর সাবেক জেনারেল। তাদের নৈতিকতা, অনভিজ্ঞতা ও অজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন দফতরের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের সঙ্গে এসব মন্ত্রীর অবস্থানে বৈপরীত্য লক্ষণীয়।
রিক পেরি : জ্বালানিমন্ত্রী হিসেবে রিক পেরিকে বেছে নিয়েছেন ট্রাম্প। অথচ ২০১২ সালে তিনি এ দফতর তুলে দেয়ার কথা বলেছিলেন। অন্যদিকে ওবামা প্রশাসনের জ্বালানিমন্ত্রী আর্নেস্ট মোনিজ একজন পরমাণু পদার্থবিদ। বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনার যথেষ্ট জ্ঞান নিয়েই এ মন্ত্রণালয়ে আসেন তিনি।
স্টিভ মুচিন : অর্থমন্ত্রী হিসেবে স্টিভ মুচিনকে বেছে নেন ট্রাম্প। অর্থনীতি নিয়ে তার কোনো অভিজ্ঞতাই নেই। অথচ তিনিই বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ দেশের রাজকোষ পরিচালনা করবেন।
টম প্রাইস : স্বাস্থ্যমন্ত্রী টম প্রাইস একজন চিকিৎসক। তার নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। গত বছর চিকিৎসাসামগ্রী প্রস্তুতকারক একটি কোম্পানির শেয়ার কেনেন। পরে কোম্পানির জন্য লাভজনক একটি আইন কংগ্রেসে প্রস্তাব করেন রিপাবলিকান এ কংগ্রেস সদস্য।
বেটসি ডেভোস : শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে ট্রাম্পের পছন্দ বেটসি ডেভোস। রিপাবলিকান পার্টির এই শত কোটিপতি দাতা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। পদ-নিশ্চিতের শুনানিতে শিক্ষানীতির মৌলিক বিষয়ে চরম অজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি।
অ্যান্ড্রু পুজডার : যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমিকদের অধিকারবিরুদ্ধ মনোভাব পোষণের জন্য অ্যান্ড্রু পুজডার আলোচিত। সিকেই ফাস্ট ফুড কোম্পানির এই সিইও শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর বিরোধী। শুধু তা-ই নয়, তার কোম্পানির বিরুদ্ধে কর্মচারী ঠকানোর অভিযোগ রয়েছে।
বেন কারসন : রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন পেতে মাঠে নেমেছিলেন বেন কারসন। তাকে গৃহায়ন ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচন করেছেন ট্রাম্প। গৃহায়ন নীতি বিষয়ে কারসনের ন্যূনতম ধারণা নেই। ট্রাম্পের পছন্দের তালিকায় থাকা আফ্রিকান-আমেরিকানদের মধ্যে কারসন অন্যতম।
উইলবার রস : বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে উইলবার রসকে মনোনীত করেছেন ট্রাম্প। তিনি একজন কোটিপতি বিনিয়োগকারী। তার বাড়ির বেশ কিছু কর্মচারীকে তিনি কোনো কাগজপত্রই দেননি বলে সম্প্রতি তথ্য বেরিয়েছে।
রায়ান জিংকে : রায়ান জিংকেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদে বসিয়েছেন ট্রাম্প। রিপাবলিকান এ নেতা নৌবাহিনীর সি, এয়ার অ্যান্ড ল্যান্ড (সিল) টিমের সাবেক সদস্য। চাকরিজীবনে আর্থিক অনিয়ম করতে গিয়ে ধরা খেয়েছিলেন তিনি।
স্কট প্রুইট : পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার (ইপিএ) মন্ত্রী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন স্কট প্র“ইট। অথচ ওকলাহামার এ অ্যাটর্নি জেনারেল কয়েকবার ইপিএর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন।
রেক্স টিলারসন : পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন একজন তেল ব্যবসায়ী। সরকারি দায়িত্ব বা কূটনৈতিক বিষয়ে তার কোনো অভিজ্ঞতা নেই। তবে তার তেলসমৃদ্ধ বিভিন্ন দেশে যাওয়ার অভিজ্ঞতা আছে।
জেমস ম্যাটিস : ট্রাম্পের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল জেমস ম্যাটিস। তিনি ‘ম্যাড ডগ’ হিসেবে পরিচিত। যুদ্ধপ্রীতির জন্য তিনি ‘যুদ্ধবাজ সন্ন্যাসী’ হিসেবে দুর্নাম কুড়িয়েছেন।
ট্রাম্প তার প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার সদস্যদের ‘ইতিহাসের সর্বোচ্চ বুদ্ধিমত্তার অধিকারী’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এ মন্ত্রিসভা নিয়ে সমালোচনার শেষ নেই। ট্রাম্পের মন্ত্রিসভাকে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে অনভিজ্ঞ’ বলে অভিহিত করেছেন ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের অন্যতম ফেলো নরমান এলসন। এই মন্ত্রিসভা নিয়ে ট্রাম্প কতটা সাফল্য পাবেন তা নিয়ে অনেকেই সন্দিহান।
মাহমুদ





