সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টার মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকট দীর্ঘদিনের এবং এর বড় অংশই উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া। তাই ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে পুরো সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সরকার সংকট চিহ্নিত করে পরিকল্পনা নিয়েছে এবং তা বাস্তবায়নের কাজ চলছে।
তিনি বলেন, গ্যাস সরবরাহে সাম্প্রতিক বিঘ্নের অন্যতম কারণ ছিল দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে দুর্ঘটনা। এতে শিল্পকারখানাসহ বিভিন্ন খাতে সরবরাহ ব্যাহত হয়। তবে দুর্ঘটনাজনিত সমস্যার সমাধান ইতোমধ্যে হয়েছে।
তৃতীয় এলএনজি টার্মিনালের উদ্যোগ
গ্যাসের ঘাটতি মোকাবিলায় দেশে তৃতীয় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। জিটুজি ভিত্তিতে এর প্রস্তুতি প্রায় শেষ হয়েছে এবং দ্রুত কাজ শুরু হবে।
২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনালটি সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিদ্যুৎ খাতের সংকট নিয়েও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছে। এখন নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
অস্থিতিশীলতা না করার আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সময় প্রয়োজন। যে সরকার দায়িত্বে থাকে, তাকে তার পরিকল্পিত কাজগুলো শেষ করার সুযোগ দেওয়া উচিত। অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তিনি বলেন, ব্যবসা ও শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর প্রভাব শুধু ব্যবসায়ীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, পুরো অর্থনীতিতে পড়ে। ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য অর্জন করতে হলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।
গণমাধ্যমের সহযোগিতা চাইলেন
সরকারের পরিকল্পনা ও কর্মসূচি সম্পর্কে জনগণকে সঠিক তথ্য জানাতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারের পরিকল্পনা পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা না হলে বিচ্ছিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকারের পরিকল্পনা যৌক্তিক মনে হলে তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে হবে। এতে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি উপকৃত হবে।
সভায় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এস





