আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও ভূরাজনীতি বিষয়ক থিঙ্কট্যাঙ্ক ‘সৌফান সেন্টার’-এর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কেনেথ কাৎজমান কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, মার্কিন বিমানবাহিনীর যে প্রযুক্তিগত ও সামরিক সক্ষমতা রয়েছে, তা দিয়ে সহজেই হুথিদের অগ্রযাত্রা রুখে দেওয়া সম্ভব ছিল। তবে কার্যকর সিদ্ধান্তের অভাবে আজ এই সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

বাব এল মান্দেব হাতছাড়া, বিপাকে সৌদি আরব

আগস্টের শেষভাগ থেকে শুরু হওয়া এই উত্তেজনার ধারাবাহিকতায় গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতে লোহিত সাগর ও এডেন প্রণালিকে যুক্ত করা অতি গুরুত্বপূর্ণ 'বাব এল মান্দেব' প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেয় হুথি যোদ্ধারা। এর আগে সৌদি আরবের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় গোষ্ঠীটি। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সমুদ্রপথে সৌদির জ্বালানি তেল রপ্তানির একমাত্র ভরসা ছিল এই বাব এল মান্দেব প্রণালি। ফলে হুথিদের এই পদক্ষেপ রিয়াদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সুরক্ষাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলেছে।

সহায়তার আবেদনে ওয়াশিংটনের না

পরিস্থিতি সামাল দিতে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান চেয়ে সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ফোন করেছিলেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। তবে সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে এই মুহূর্তে ইয়েমেনে নতুন করে সরাসরি সামরিক অভিযানে যাওয়ার অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র নেই। যদিও গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের ক্ষেত্রে রিয়াদকে সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নিয়ে সমালোচনা

কেনেথ কাৎজমান আলজাজিরাকে জানান, ট্রাম্প নিজেকে কার্যকর ‘কমান্ডার-ইন-চিফ’ হিসেবে উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। শতক ধরে আন্তর্জাতিক পানিপথে অবাধ জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রধান ভূরাজনৈতিক স্বার্থ হিসেবে দেখে এসেছে। কিন্তু বর্তমানে ইরান ও হুথিদের বাধার মুখে মার্কিন নীতি স্থবির হয়ে পড়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন মূলত সৌদি আরবের ওপর ভরসা করেই হাত গুটিয়ে বসে আছে, যা সংকটের স্থায়ী সমাধান আনতে পারবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এমএম