সৌদি আরবের সংস্কৃতি ও তথ্যমন্ত্রী আওয়াদ আলওয়াদের সভাপতিত্বে গতকাল সোমবার শিল্পটির নিয়ন্ত্রক সংস্থা জেনারেল কমিশন ফর অডিও ভিজ্যুয়াল মিডিয়ার সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে সিদ্ধান্ত হয়, সিনেমা হলের জন্য অনুমোদন দেওয়া শুরু হবে এবং আগামী বছর নাগাদ দর্শকেরা হলে বসে সিনেমা উপভোগ করতে পারবে।
পরে এক বিবৃতিতে তথ্যমন্ত্রী আওয়াজ আলওয়াদ বলেন, শিল্পটির নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে জেনারেল কমিশন ফর অডিও ভিজ্যুয়াল মিডিয়া সৌদি আরবে সিনেমার অনুমোদন দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
মোহাম্মদ বিন সালমান সৌদি আরবের যুবরাজ হওয়ার পর থেকে একের পর এক পরিবর্তন হচ্ছে দেশটিতে।
সর্বশেষ সিদ্ধান্ত হচ্ছে, আগামী বছরের শুরু থেকে সৌদি আরবে খুলছে বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের দুয়ার। ৩৫ বছরের মধ্যে এই প্রথম হলে বসে চলচ্চিত্র উপভোগ করতে পারবে সৌদি নাগরিকেরা।
২০১৮ সালের মার্চের মধ্যেই প্রথম সিনেমা মুক্তি পাবে, এমনটিই প্রত্যাশা তাঁর। তথ্যমন্ত্রী বলেন, এটি সৌদি আরবের সাংস্কৃতিক অর্থনীতির জন্য যুগসন্ধিক্ষণ। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং বৈচিত্র্যের ক্ষেত্রে অন্যতম অনুঘটকের কাজ করে সিনেমা হল চালুর পদক্ষেপ।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে সৌদি আরবে একটি পরিবারের মোট ব্যয়ের ২ দশমিক ৯ শতাংশ যায় সংস্কৃতি ও বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডে। ২০৩০ নাগাদ তা ৬ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি ওই সময় নাগাদ দেশে ৩০০টি সিনেমা হল করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ধর্মীয়ভাবে রক্ষণশীল দেশ সৌদি আরবে এত দিন সিনেমা হল নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু ‘কট্টরপন্থা’ থেকে ‘মধ্যপন্থা’র ইসলাম ধর্মে আস্থা রাখার অঙ্গীকার করেছেন দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।
মধ্যপন্থী ইসলামের প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে তিনি আধুনিক সৌদি আরব গড়ার পরিকল্পনা করেছেন বলে জানিয়েছেন।
গত জুনে যুবরাজ হওয়া পর থেকে দ্রুত বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। কিছুদিন আগেই নারীরা গাড়ি চালানোর অধিকার পেয়েছেন।
এখন থেকে সৌদি আরবে নারীরাও ফতোয়া জারি করতে পারবেন বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছে দেশটির শুরা কাউন্সিল।
নভেম্বরে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের নামে দেশটির রাজনীতি ও ব্যবসাক্ষেত্রের বহু রাঘববোয়াল গ্রেপ্তার হন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ১১ প্রিন্স, বর্তমান ও সাবেক মন্ত্রী, ধনাঢ্য ব্যবসায়ী। অভিযোগ রয়েছে, নিজের ক্ষমতা নিরঙ্কুশ করতে বিরোধীদের দমন করছেন বিন সালমান।
এএস





