যুদ্ধপীড়িত দেশ থেকে হাজার হাজার মানুষ ইউরোপে পালিয়ে যাওয়ায় ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রসমূহকে ২ লাখ শরণার্থীকে পুনর্বাসনের নিশ্চয়তা দেয়ার আহবান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
মঙ্গলবার জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই-কমিশনের মুখপাত্র মেলিসা ফ্লেমিং বলেছেন যে ইউরোপ একটি সমৃদ্ধশালী মহাদেশ। যত মানুষ আসছে তারা তাদের ব্যবস্থা করতে পারবে।
তিনি বলেছেন যে ইইউ'র একটি নীতিমালা গ্রহণ করা উচিত, যার মাধ্যমে সব সদস্য রাষ্ট্র শরণার্থীদেরকে আশ্রয় দিতে বাধ্য থাকবে।
ফ্লেমিং বলেছেন, "ইইউ'র অধীনে গ্রিস, ইতালি ও হাঙ্গেরিতে বড় ধরনের রিসিপশন কেন্দ্র গড়ে তোলা উচিত। যার মাধ্যমে লোকজন এসে সেখানে যথাযথ মানবীয় অবস্থায় থাকতে পারেন এবং আশ্রয়ের জন্য আবেদন করতে পারেন।"
তার মতে, বর্তমান নিয়মে ইউরোপের সীমান্তবর্তী রাষ্ট্রগুলো অতিরিক্ত বোঝা বহন করছে।
এর আগে একটি সংবাদ সম্মেলনে ফ্লেমিং বলেছেন যে ইউরোপিয়ান সমস্যা সমাধান শুধু জার্মানিরই দায়িত্ব নয়। শরণার্থী সঙ্কট নিরাসনে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মারকেলের সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালনের কথা উল্লেখ করে তিনি এ কথা বলেছেন।
জাতিসংঘরে এই কর্মকর্তা আরো বলেছেন, "তারা তখনই কাজ করতে পারে, যখন পুনর্বাসনের একটি নিয়ম থাকে এবং ইউরোপিয়ান রাষ্ট্রগুলো বলে যে হ্যাঁ আমার এত সংখ্যক শরণার্থীকে গ্রহণ করব। আমরা বিশ্বাস করি, এটা ২ লাখ হওয়া উচিত।"
আল জাজিরার প্রতিনিধি মোহাম্মদ জামজুম ভিয়েনা থেকে জানিয়েছেন, অনেক শরণার্থী সেখানে পৌঁছেছেন এবং তাদের মধ্যে উদ্বিগ্নতা রয়েছে যে কোনো নতুন পদক্ষেপ নেয়া হয় কিনা, যার ফলে তাদের যাত্রায় বাধা আসতে পারে।
জামজুম বলেছেন, "এই মুহুর্তে এমনকি অস্ট্রিয়ার সরকারের সামনে কোনো সোজা-সাপ্টা পথ নেই...আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছি এবং এটা স্পষ্ট যে ইইউ'র নিয়মের মধ্য থাকতে একটি সুসঙ্গত নীতিমালার জন্য সরকার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।"
জাতিসংঘ জানিয়েছে যে সোমবার রেকর্ড ৭ হাজার সিরিয়ান শরণার্থী মেসিডোনিয়ায় পৌঁছেছেন, একই সময় গ্রিসের দ্বীপে ৩০ হাজার লোক পৌঁছেছেন।
জেডআই





