ভারতে ২০০২ সালে গুজরাট দাঙ্গার সময় নিহত কংগ্রেস দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য এহসান জাফরির বিধবা স্ত্রী জাকিয়া জাফরি মঙ্গলবার আহমেদাবাদের নিম্ন আদালতের সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিমের (এসআইটি) পক্ষ থেকে গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও অপর ৫৭ জনকে দাঙ্গা সংশ্লিষ্ট অপরাধমূলক চক্রান্তের অভিযোগ থেকে দেয়া ক্লিনচিট (অব্যাহতি) সমুন্নত রাখার আদেশ চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে আবেদন করেছেন।
টাইমস অব ইনিডয়ার এক খবরে একথা বলা হয়।
জাকিয়া জাফরি তার আবেদনে বলনে, ‘মোদি ও অন্যদের অবশ্যই গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ এবং ঘটনার সাক্ষ্য-প্রমাণ ও গুজরাট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মূল্যবান দলিল-পত্র নষ্ট করে অপরাধমূলক চক্রান্ত করার জন্য অভিযুক্ত করতে হবে।’
৭৪ বছর বয়স্কা জাকিয়া জাফরির স্বামী এহসান জাফরিকে ২০০২ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময়ে আহমেদাবাদের গুলবার্গ সোসাইটিতে অপর ৬৮ জন স্থানীয় বাসিন্দাসহ অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
গত ২৬ ডিসেম্বর আহমেদাবাদের নিম্নআদালত নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে জাকিয়া জাফরির আরজি খারিজ করে দেন।
জাকিয়া জাফরি ২০০৬ সালে মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, তার মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বন্ধু-বান্ধব, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও বিজেপি আমলাসহ ৬৩ জনের বিরুদ্ধে দাঙ্গায় সর্বাত্মক সহযোগিতার অভিযোগ আনেন। জাকিয়া জাফরির এ অভিযোগে সুপ্রিম কোর্ট সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (সিবিআই) সাবেক পরিচালক আর কে রাঘনের নেতৃত্বে বিশেষ তদন্ত টিম (এসআইটি) গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দেন। এসআইটি তদন্ত শেষে সুপ্রিম কোর্টে যে রিপোর্ট পেশ করেছে, তাতে মোদিকে ক্লিনচিট দেয়া হয়েছে।
১৪ মে, ২০১০ সালে এসআইটি সুপ্রিম কোর্টে পেশকৃত রিপোর্টে বলেছে, এ তদন্তের সময় জাকিয়া জাফরির অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অতঃপর সুপ্রিম কোর্ট আদালতের সিনিয়র আইনজীবী রাজুরাম চন্দরনকে স্বাধীনভাবে এসআইটির তদন্তের সত্যায়নের দায়িত্ব অর্পণ করেন।
রাজুরাম চন্দরন ১৮ জুন, ২০১১ আহমেদাবাদে প্রত্যক্ষ সাক্ষীদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি ২৫ জুলাই, ২০১১ সালে সুপ্রিম কোর্টে তার রিপোর্ট পেশ করে বলেন, প্রাপ্ত প্রমাণাদির ভিত্তিতে মোদিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যেতে পারে। এরপর ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১১ সালে সুপ্রিম কোর্ট আহমেদাবাদের ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতকে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব অর্পণ করেন যে, মোদি ও অন্যান্য অপরাধীর বিরুদ্ধে তদন্ত করা যাবে কিনা। এসআইটি ১৫ মার্চ, ২০১২ সালে তার পূর্ণ রিপোর্ট ও মোকদ্দমার কাগজপত্র যাচাই করার জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে সোপর্দ করে। ১০ এপ্রিল, ২০১৩ সালে ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত বললেন, এ রিপোর্টের বেশির ভাগ প্রমাণিত নয়। সুতরাং এ মামলার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া উচিত। এপ্রিল, ২০১৩ সালে জাকিয়া জাফরি এসআইটির পক্ষ থেকে মোদি ও অন্যান্য অভিযুক্তকে দেয়া ক্লিনচিটকে চ্যালেঞ্জ করেন। এ আরজিকে গত ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৩ সালে ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত খারিজ করে দেন।
[b]ঢাকা, ১৯ মার্চ (টাইমনিউজবিডি) //  টিআই
[/b]