মেয়েটির নাম চন্দ্রজা গুহ। পড়ে দমদমের একটি বেসরকারি কনভেন্ট স্কুলে। তাকে নিয়ে কথা বলার কারণ এই শিক্ষার্থী গত ১৪ বছর ধরে একদিনও স্কুলে অনুপস্থিত হয়নি। এর মানে হলো প্রতি বছর যে কয়েক দিন স্কুল হয়েছে, অবশ্যই স্কুলে গিয়েছে চন্দ্রজা।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, ৪ বছর বয়সে স্কুলে নার্সারিতে ভর্তি হয়েছিল ছোট্ট চন্দ্রজা গুহ। এখন সে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী। স্কুলের হাজিরা খাতার (অ্যাটেন্ডেন্স) তথ্য মতে নার্সারিতে ভর্তি হওয়ার পর থেকে গত ১৪ বছরে শতকরা ১০০ শতাংশ উপস্থিতি ছিল চন্দ্রজার। শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা কোন দিন স্কুল কামাই দেয়নি মেয়েটি। একটানা ১৪ বছর স্কুলে উপস্থিত থেকে অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণাও দমদমের স্কুলের ওই ‘সুপার-গার্ল’ খ্যাত মেয়েটি।

দমদমের কিশোর ভারতী স্কুলের অধ্যক্ষ নিত্য রঞ্জন বাগচী বলেন, ‘চন্দ্রজা একটি উদাহরণ তৈরি করেছে। এটা অন্যদের উৎসাহিত করবে।’

চন্দ্রজার একটানা স্কুলের যাওয়ার এই খবর প্রকাশ হয় ‘এই সময়ে’। এরপরই পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি চন্দ্রজা গুহকে একটি সনদ এবং কিছু উপহারের জন্য তাঁর মন্ত্রণালয়ে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সরকার শিক্ষার ব্যাপারে ভবিষ্যতে চন্দ্রজাকে সাহায্য করবে।’

মা ডলি গুহ এবং বাবা কৃষিতি রঞ্জন গুহ এর পুরো কৃতিত্ব দিয়েছে তাঁদের সন্তান চন্দ্রজাকেই।

শুধু উপস্থিতির ক্ষেত্রেই নয় পড়াশোনায়ও সেও অনেক ভালো। সে বরাবর ‘এ’ গ্রেডের ছাত্রী। একাডেমিক ক্যারিয়ারে কোনো সময় শতকরা ৯০ এর নিচে নম্বর পায়নি সে।

ওই স্কুলের শিক্ষক অর্মিতা চ্যাটার্জি বলেন, চন্দ্রজা স্কুলকে খুব ভালোবাসে। এটাই তার স্কুলেই শতকরা ১০০ ভাগ উপস্থিতিতে সাহায্য করেছে। অন্য শিক্ষার্থীরা তার কাছ থেকে কিছু শিখতে পারে।

বান্ধবী সোহেলী দাশ বলেন, ‘প্রতিদিন স্কুলে আসতে চন্দ্রজা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে।’

 

এসটি