নতুনভাবে তৈরি হওয়া বিশ্ব মানবতার জন্য ভয়ানক হুমকি হিসেবে উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক যুদ্ধের যে ঘন্টা বেজেছে তা থেকে বিশ্বমানবাতকে রক্ষা করতে জাতিসংঘকে সক্রিয় হওয়ার আহবান জানিয়েছেন ভ্যাটিকানে খ্রিস্টানদের ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। তিনি বলেছেন, উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অন্তত এক বছর ধরে যে সংকট বিশ্বযুদ্ধময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তা আরো অবনতি হলে ওই যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতি থেকে বিশ্বের অন্তত অর্ধেক মানুষ রেহাই পাবে না। তাই এই সংকট নিরসনে জাতিসংঘকে অতিসত্তর এগিয়ে আসা উচিত। পোপ তার পাপেল প্লেনে সমাগতদের মধ্যে দেওয়া এক বক্তব্যে শনিবার এ কথা বলেন।

পোপ ফ্রান্সিস প্যারেস্টাইন ও ইসরায়েলের মধ্যে মধ্যস্ততায় নরওয়ের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেন, অসলো চুক্তি এই দুটি বিব্দমান জাতিকে তথা বিশ্ববাসীকে যেমন ভয়াবহ যুদ্ধের হাত থেকে রক্ষা করেছে তেমনি মধ্যস্ততাই যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে সংকট দূর করে বিশ্ববাসীকে ভয়াবহ যুদ্ধের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে ।

তিনি বলেন, নরওয়ে এক্ষেত্রে উদাহরণ হলেও আরো অনেক দেশ বা বিশ্বনেতা আছেন যারা মধ্যস্ততায় রাজি আছেন এবং সক্রিয় ভূমিকা রাখতে আগ্রহী এবং জাতিসংঘের উচিত তাদের কাজে লাগানো। আমাদের অবশ্যই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংলাপে বসা উচিত। পারমাণবিক যুদ্ধ থেকে বিশ্ববাসীকে বাঁচাতে হলে আমাদের তা করতেই হবে।

সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ৫৯টি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর রাশিয়ার সঙ্গে এই বিশ্ব পরাশক্তির কঠিনতম শীতল সম্পর্ক, উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা অব্যাহত রাখায় দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জন্যে রণপ্রস্তুতি ও একাধিক যুদ্ধ জাহাজ প্রেরণ ইত্যাদি মিলিয়ে যখন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে বিশ্ববাসী আতংকিত তখন জাতিসংঘকে এধরনের মধ্যস্ততার আহবান জানালেন পোপ ফ্রান্সিস।
জেড