রাশিয়া একটি সাবমেরিন ড্রোন তৈরি করতে যাচ্ছে যা পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র অথবা বৈদ্যুতিক স্থাপনায় আঘাত হানতে সক্ষম বোমা পরিবহন করে যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলে আঘাত হানতে পারবে।

রাশিয়ার কর্মকর্তারা এটার সত্যতা স্বীকার করেছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেণ্টাগণও এই প্রোগ্রামের কথা জানতে পেরেছে। প্রোগ্রামটির সাংকেতিক নাম ‘ক্যানিয়ন’।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত একটি ডকুমেন্টেশন প্রোগ্রামে দেখা যায়, ক্যানিয়ন শত্রু দেশের উপকূলীয় এলাকার অর্থনীতি ধ্বংস করতে সক্ষম এবং ওই ভূখন্ডের সামরিক, অর্থনৈতিক অথবা অন্যান্য কার্যক্রমকেও দীর্ঘদিনের জন্য অকেজো করে দিতে পারে।

এক কথায়, রাশিয়া প্রযুক্তিগতভাবে অত্যাধুনিক একটি অস্ত্র তৈরি করতে যাচ্ছে যা আমেরিকার উপকূলীয় এলাকাকে মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে ফেলবে।

রাশিয়া যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের সাথে চলমান উত্তেজনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছে তা ক্যানিয়নের মত আক্রমণাত্মক ও উদ্ভাবনী অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা দেখে বুঝা যায়। দারুন বিধ্বংসী ক্ষমতাসম্পন্ন ক্ষেপনাস্ত্রটি তৈরি করা গেলে তা যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের নৌবাহিনীর কার্যকারিতা ধ্বংস করতে সক্ষম হবে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘোষিত পরমাণু অস্ত্র আধুনিকীকরণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ক্যানিয়ন নির্মাণ করতে যাচ্ছে রাশিয়া। পুতিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়াটি ধ্বংস করতে চান। এর অংশ হিসেবে, রাশিয়া নতুন আকৃতির ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্র যে কোনো অ্যাণ্টি মিসাইল ব্যবস্থাকে পরাস্ত করতে পারে।

পক্ষান্তরে, যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু অস্ত্র আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়ায় তেমন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত লেগে যেতে পারে। তবে আগ্রাসী পুতিন কি যুক্তরাষ্ট্রকে এত সময় দিবেন?

এমএ