এবার বাঙালি মুসলিম নারীকে অবমাননা করেছে কানাডাভিত্তিক তৈরি পোশাক ব্র্যান্ড অ্যামেরিকান অ্যাপারেল। কোম্পানিটি তাদের পণ্যের এক বিজ্ঞাপনে নগ্নবক্ষা সাবেক বাঙালি মুসলিম নারী মডেলের ছবি ব্যবহার করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বিজ্ঞাপনটি ভাইস ম্যাগাজিনের যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে। বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত ওই ছবিতে ‘মাকস’ নামের ওই সাবেক বাঙালি মুসলিম নারী মডেলকে নগ্নবক্ষা পোজ দেওয়া অবস্থায় দেখা গেছে।
মাকসের পুরোপুরি উলঙ্গ বক্ষের ওপর লেখা আছে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’। অথচ কোম্পানিটির সব পণ্যই তৈরি হয় যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলস শহরের কেন্দ্রস্থলে। শ্রমিকদের সঙ্গে অ্যামেরিকান অ্যাপারেলের সদাচরণের প্রচারণা চালাতেই নাকি এ কৌশল!
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মাকস নিজেও নাকি ওই কোম্পানিরই মার্চেন্ডাইজার হিসেবে কর্মরত আছেন। উল্লেখ্য, মাকস চার বছর বয়স থেকেই লসঅ্যাঞ্জেলসে বসবাস করছেন।
মাকসের ওই নগ্নবক্ষা ছবির সঙ্গে তার জীবন সংগ্রাম সম্পর্কেও একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হয়েছে। চরম রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ ও লালিত-পালিত হয়েও মাকস কীভাবে ‘আত্মপরিচয়’ অনুসন্ধান করতে গিয়ে নিজেকে ইসলাম ধর্ম বিশ্বাস থেকে আলাদা করেন সেখানে তা বর্ণনা করা হয়েছে।
ওই বিবরণে বলা হয়েছে, ওই নগ্নবক্ষা সুন্দরী নিজেকে আমেরিকান বা বাঙালি বলে পরিচয় দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেন না। এমনকি মনুষের জীবন সম্পর্কে প্রচলিত কোনো মতবাদের সঙ্গেও তিনি নিজেকে একাত্ম করতে আগ্রহী নন।
প্রসঙ্গত, ১৯৮৯ সালে কানাডায় প্রতিষ্ঠিত অ্যামেরিকান অ্যাপারেল কর্তৃক পণ্যের বিজ্ঞাপনে এ ধরনের দুঃসাহসী প্রচারণা চালিয়ে বিতর্ক সৃষ্টির ইতিহাস অনেক পুরনো। মাকসের আগে কোম্পানিটি তাদের তৈরি এক অন্তর্বাসের বিজ্ঞাপনে ৬২ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা মডেলকে ব্যবহার করে ব্যাপক চমক সৃষ্টি করে।
কোম্পানিটির বিরুদ্ধে বিজ্ঞাপনে নারীদের উপস্থাপনে সীমালঙ্ঘন ও মর্যাদাহানির একগাদা অভিযোগ রয়েছে। এমনকি শিশুদেরও যৌন উত্তেজক ভঙ্গিতে বিজ্ঞাপনে উপস্থাপনের অভিযোগ রয়েছে ওই কোম্পানির বিরুদ্ধে। এ কারণে যুক্তরাজ্য সরকার কোম্পানিটির অসংখ্য বিজ্ঞাপন সে দেশে প্রচার নিষিদ্ধ করেছে। গত বছরও ‘অতিরিক্ত যৌন উত্তেজক’ ছবি ব্যবহারের কারণে যুক্তরাজ্য সরকার সে দেশে কোম্পানিটির এক বিজ্ঞাপনি প্রচারণা অভিযান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে।
অ্যামেরিকান অ্যাপারেলের এ বিজ্ঞাপনে কোন ধরনের প্রতিক্রিয়া আসে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে কোম্পানিটির এ ধরনের কাণ্ড এখনই শেষ হচ্ছে তাও বলা যাচ্ছে না। সূত্র : নিউইয়র্ক টাইমস ও দ্য গার্ডিয়ান
[b]ঢাকা, ৯ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম)//এমএ[/b]