ইউক্রেইনকে নানান অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্রসহ ২০০ কোটি ডলারের বেশি সামরিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন দুই মার্কিন কর্মকর্তা।

ওয়াশিংটনের নতুন এ সহায়তায় প্রথমবারের মতো দূরপাল্লার রকেট থাকছে, থাকছে প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনার সরঞ্জাম, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম এমন গোলা এবং ট্যাংকবিধ্বংসী অস্ত্র জ্যাভেলিনও, মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তারা এমনটাই বলেছেন।

এই প্যাকেজের বড় একটি অংশ, প্রায় ১৭২ কোটি ৫০ লাখই আসছে ইউক্রেইন সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স ইনিসিয়েটিভ (ইউএসএআই) থেকে, এই তহবিলের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন মার্কিন সামরিক বাহিনীর মজুদে হাত না দিয়ে বিভিন্ন কোম্পানি থেকে অস্ত্র কিনতে পারছেন, বলেছেন এক কর্মকর্তা।

ইউএসএআই তহবিলের অর্থ দিয়ে ওয়াশিংটন মূলত বোয়িং ও সুইডিশ কোম্পানি এসএএবি-র যৌথভাবে বানানো নতুন অস্ত্র গ্রাউন্ড লঞ্চড স্মল ডায়ামিটার বম্ব (জিএলএসডিবি) কিনতে যাচ্ছে; এই বোমাগুলোর পাল্লা দেড়শ কিলোমিটার।

ইউক্রেইন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ২৯৭ কিলোমিটার পাড়ি দিতে সক্ষম এমন এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্র চাইলেও তাদের সেই আবেদন গৃহীত হয়নি।

দূরপাল্লার এই জিএলএসডিবি মূলত জিবিইউ-৩৯ স্মল ডায়ামিটার বম্ব (এসডিবি) ও এম২৬ রকেট মোটরের মিলিত রূপ। জিপিএস-নির্দেশিত হওয়ায় এটি কিছু মাত্রার ইলেকট্রনিক জ্যামিংকে পরাজিত করতে পারবে, ব্যবহার করা যাবে যে কোনো আবহাওয়ায়, যে কোনো সাঁজোয়া যানের বিরুদ্ধে, বলছে এসএএবি-র ওয়েবসাইট।

দূরপাল্লার হওয়ায় এটি ইউক্রেইনকে তার এখনকার সক্ষমতার তুলনায় বেশি দূরের লক্ষ্যে আঘাত হানতে সাহায্য করবে; রাশিয়ার বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণে এটি কিইভবাহিনীর অন্যতম প্রধান অস্ত্র হতে পারবে, মত পশ্চিমা সমর বিশ্লেষকদের।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া প্রতিবেশী দেশে সেনা পাঠানোর পর যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত ইউক্রেইনকে প্রায় ‍দুই হাজার ৭২০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়েছে।

এইচএম