পাকিস্তানের সাথে এই মুহূর্তে অন্তত যুদ্ধের পথে যাচ্ছে না ভারত। নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক বক্তৃতায় সেটা পরিষ্কার হয়ে গেছে বলে অনেক বিশ্লেষক বলছেন। প্রথম দিকে ভারত সরকারের বিভিন্ন মহল বেশ হুঙ্কার দিয়েছিল। হঠাৎ কেন তারা পিছু হটল?
কলকাতাভিত্তিক একটি নিউজ পোর্টালে বলা হয়েছে, বিশেষজ্ঞদের মতে, হাওয়া যাই উঠুক, এই মুহূর্তে কোনো অবস্থাতেই যুদ্ধের পথে হাঁটবে না নরেন্দ্র মোদি সরকার ৷ বরং, কূটনৈতিকভাবেই আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানকে আরো একঘরে করার দক্ষ চাল চালতে পারে ভারত৷ যার অনেকটাই দিল্লি ইতোমধ্যে করেও ফেলেছে৷
গত শুক্রবার জাতিসঙ্ঘের সহ-সচিব রাইজার্ড কারনেকি জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদ মঞ্চ থেকে পাকিস্তানকে সমালোচনা করেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, বেলুচিস্তানে যদি মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়, তাহলে যুগপৎ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আরোপ করা হতে পারে৷
এ কথা শোনার পরেই ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সৈয়দ আকবরউদ্দিন সংবাদ সম্মেলনে জানান, জাতিসঙ্ঘ মঞ্চ থেকে কার্যত শূন্যহাতেই দেশে ফিরেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী৷ কিন্তু প্রশ্ন হলো, সত্যিই কি পাকিস্তানের হাত একেবারে শূন্য? কোনো রাষ্ট্রই কি পাকিস্তানের সঙ্গে নেই?
কোনো কোনো মতে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি অনুযায়ী ভারতের থেকে খানিকটা হলেও এগিয়ে রয়েছে পাকিস্তান৷ বিশেষ করে আঞ্চলিক রাজনীতিতে মোদিকে খানিকটা পিছিয়েই রেখেছেন নওয়াজ শরিফ৷
ভারতের কাছে পাকিস্তানের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হলো চীন৷ উরির ঘটনার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই রীতিমতো প্রেস বিবৃতি দিয়ে ইসলামাবাদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে জি জিনপিংয়ের নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট সরকার৷ কোনো অবস্থাতেই পাকিস্তানের সঙ্গে তার দেশ যে সম্পর্ক খারাপ করবে না তাও জানিয়েছে চীনা প্রেসি়ডেন্ট জি জিনপিং৷ শুধু তাই নয় কাশ্মীর ইস্যুতেও ইসলামাবাদ-রাওয়ালপিন্ডির সুরই বাজছে বেইজিংয়ের গলায়৷
উরিতে সন্ত্রাসবাদী হামলার বহু আগে থেকেই পাকিস্তানকে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের যাবতীয় প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখেছে ইন্দোনেশিয়াও৷ আবার ভারতের পাশাপাশি পাকিস্তানের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদার করতে যে তারা বদ্ধপরিকর সে কথা জানিয়েছে মাওবাদী প্রচণ্ডর নেপাল সরকার৷
এদিকে কাশ্মীর ইস্যুতে চীনের পাশাপাশি পাকিস্তান পাশে পেয়েছে রজব তাইয়েপ এরদোগানের তুরস্ককে৷ আঙ্কারার দাবি, ভারতই ‘অনৈতিকভাবে’ কাশ্মির দখল করে রেখেছে৷ আবার উরিতে সন্ত্রাসবাদী হামলার নিন্দা করলেও মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে কখনই সরাসরি পাকিস্তানের নাম নেয়া হয়নি৷ যদিও ভারতের দাবি, সরাসরি নাম না নিলেও এই হামলার পিছনে যে পাকিস্তানের মদত রয়েছে সেই বার্তাই দিয়েছে ওবামা প্রশাসন৷ অন্যদিকে ভারতের বরাবরের বন্ধু দেশ রাশিয়ার সম্প্রতি গতিবিধি নিয়েও আশঙ্কা বাড়ছে ভারতের কোনো কোনো মহলে৷
ভারতীয় মিডিয়ার ওই খবরে বলা হয়, সুতরাং সব দিক থেকে বিচার করে ভারত কূটনৈতিকভাবে সত্যিই কতটা এগিয়ে তা বলা খুব মুশকিল৷ আর তাই ‘মন কি বাতেঁ’র অনুষ্ঠান হোক কিংবা কোঝিকোড়ে বিজেপির কর্মসমিতির বৈঠক, সব মঞ্চ থেকে ভারতের শাসকপক্ষ পাকিস্তানকে ধমক-চমক দিলেও যুদ্ধের দিকে যে মোদি সরকার পা বাড়াচ্ছে না, তা বলা যেতেই পারে৷ তা ছাড়া কারগিল যুদ্ধের পরে অটলবিহারী বাজপেয়ী সরকারের পতনের একটা পূর্বস্মৃতিও রয়েছে৷ সেই ইতিহাস বিজেপি ভুলে যায়নি৷
এম এ





