“অ ভাই আমারে এক গললাস (গ্লাস) পানি দেওরেবা, আমার গলা হুকাইগেছে (শুকিয়ে গেছে), আর আমারে মারিও না, আমার আত-পাও ভাংগি গেছে (হাত-পা)” এত সব কথা বলার পরও মন গলেনি পাষন্ড খুনীদের।

গত ৮ জুলাই সিলেট-সুনামঞ্জ রোডের কুমারগাঁও বাসস্টেশন এলাকার বড়গাঁওস্থ সুন্দর আলী মার্কেটের একটি ওয়ার্কশপের সামনে বারান্দার খুঁটিতে বেঁধে রেখে নির্যাতনে নিহত রাজনের এমন আহাজারিতে আশ-পাশের অনেকেরই চোখের পানি গড়িয়ে পড়লেও হৃদয়ে এতটুকু দয়ার উদ্রেক হয়নি মানুষরুপী কয়েকটি নরপশুর।

মানবতার চরম শিখরে পৌছেছে শামিউল ইসলাম রাজন হত্যার ঘটনা। শুধু এ দেশের মাটিতেই নয়, ঝড় উঠেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলোতেও।

বিবিসি খবরে বলা হয়, নজিরবিহীন! নজিরবিহীন!! এরকম ক্ষোভ, এরকম প্রতিক্রিয়া- মানুষের একেবারে ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে, এতো স্বতঃস্ফূর্ত, অন্তত সাম্প্রতিক সময়ে কোনো একটি ঘটনায় চোখে পড়েনি।

সিলেটে ভিডিও ক্যামেরার সামনে এক কিশোরকে পেটানোর পর তার মৃত্যুর ঘটনায় মানুষের ক্ষোভ, ঘৃণা, যন্ত্রণা আর অসহায়ত্বের কথা ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

সামাজিক যোগাযোগের এই সাইটটির হোম পেজে গেলেই স্পষ্ট বোঝা যায় এই নিষ্ঠুরতা মানুষজনকে কিভাবে নাড়া দিয়েছে।

গ্লোবাল ভয়েস নামক একটি গণমাধ্যমে প্রকাশ করেছে, বাংলাদেশে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ১৩ বছর বয়সী ছেলের ভয়ঙ্কর মৃত্যুর ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে।

ফেসবুক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি রিকশা ভ্যান চুরি করার অভিযোগে শারীরীক নির্যাতনের পর হত্যা করার লোম হর্ষক কাহিনীর জন্ম দেয়া হয়েছে।

তাতে সামাজিক যোগাযোগ ফেসবুকে হৈচৈ ঝড় উঠেছে। জানা গেছে রাজন একটি স্থানীয় প্রাথমিক স্কুলে গ্রেড চার পর্যন্ত অধ্যয়নরত ছাত্র এবং একজন ড্রাইভারের ছেলে।

টাইম পত্রিকায় বলা হয়েছে, সিলেটে গত সপ্তাহে ১৩ বছরের এক যুবককে চুরির অভিযোগে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যার বিচার দাবি করে শত শত জনগণ রাস্তায় মানব বন্ধন করেছে।

সাউথ এশিয়া মিডিয়া নামক এক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, সিলেটে ১৩ বছর বয়সী শামিউল আলম হত্যার প্রতিবাদে অংশগ্রহণ করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের অধিনায়ক মুশফিকুর রহমান।

তিনি তার ফেসবুক পেজে বলেন, একটি অবুঝ শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করা এর চেয়ে জগণ্য কাজ আর কোন কিছু হতে পারেনা।

দি ফিফথ কলাম নামক এক গণমাধ্যম অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে, সিলেটে একটি রিক্সা চুরির অভিযোগে ১৩ বছর একটি শিশুকে প্রহার ও নির্যাতন করার পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।

চেঞ্জ অর্গ নামক একটি অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, তুমি একটি বিষয় চিন্তা করেছো, সিলেটে রাজন হত্যার বিচার কি তার পরিবার পেয়েছে? যে ছেলেটিকে কত নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।

তার কি দোষ ছিলো শুধু মাত্র কিছু খাবারের জন্য তাকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু তা বড় কথা নয়, সে যখন শাক-শব্জি বিক্রি করে তার পরিবারের জন্য খাবার নিয়ে আসে, ঠিক তখনি কিছু মানুষরুপি শয়তান তাকে ধরে নিয়ে চুরির অভিযোগে নির্মমভাবে হত্যা করে।

হিন্দুস্তান নামক একটি অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, সিলেটে ১৩ বছরের এক বালককে নির্মমভাবে হত্যা করার মূল হোতাকে সৌদিতে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ফেসবুকে ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার পরই সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ গড়ে তোলেন।

এশিয়া ওয়ান নামক একটি অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, বাংলাদেশের এক বালককে মিথ্যা চুরির অভিযোগে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।

দি টেলিগ্রাফ নামক একটি অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, ১৩ বছর বালককে হত্যার অভিযোগে ৫ অভিযু্ক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, শামিউল আলম রাজনের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে রড দিয়ে ৬০-এর অধিক প্রহার করা হয়েছে। যাতে তার মাথায় রক্তক্ষরণ হয়ে মৃত্যুর দিকে ঢলে পড়ে।

ডি ডাব্লিউ নামক একটি অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, বাংলাদেশে ১৩ বছর এক বালককে নির্মমভাবে হত্যা করায় হত্যার অভিযুক্তদের খুজছে পুলিশ।

বিক্স টুডে নামক একটি অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, বাংলাদেশে ১৩ বছর বয়সী এক বালককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।

মেইল অনলাইন নামক একটি অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, সিলেটে রাজন হত্যার বিচারের দাবিতে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করার দাবি জানিয়েছে।

আলজাজিরা নামক একটি অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, ১৩ বছর বয়সী এক বালককে নির্মমভাবে হত্যা করার অভিযুক্ত ব্যক্তিদের খুজছে পুলিশ।

সামাজিক যোগাযোগ ফেসবুকে নির্যাতনের ভিডিও প্রকাশের পরপরই জনসাধারনের মধ্য তোলপার ও জাগড়ন সৃষ্টি হয়।

এসএইচ