ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার বলেছেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর দরকার নেই। কিন্তু পাশ্ববর্তী দেশ হিসেবে শিল্প-বানিজ্য, সাংস্কৃতিক পরিস্থিতি ঘোলাটে হলে আমাদের গায়েও এ বাতাস লাগে।

মঙ্গলবার দুপুরে ছাগলনাইয়া উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের মোকামিয়ায় সুয়াশাহ ফকির মাজার এলাকায় সীমান্ত হাটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মানিক সরকার।

তিনি বলেন, কিছু দুস্কৃতিকারী বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অশান্ত করে তুলছে। আমরা বাংলাদেশের পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে আমাদের কিছু বলার নেই। কিন্তু বাংলাদেশের পরিস্থিতি অশান্ত হলে আমাদের মনও অশান্ত হয়।

ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন হয়, সে আন্দোলন সহিংস এবং জ্বালাও-পোড়াও হলে আমাদের মন জ্বলে।  

মানিক সরকার বলেন, ২০১০ সালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে সীমান্ত চুক্তি করেন। সেই চুক্তি মোতাবেক ৮ টি সীমান্তে যাচাই-বাছাই করে ৪টি সীমান্ত হাট চালু করা হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকার মানুষ সপ্তাহে একদিন প্রতি মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় মিলনমেলায় মিলিত হবে। দুই দেশে উৎপাদিত সামগ্রী কেনাবেচা হবে এই হাটে।

তিনি বলেন, সঠিকভাবে পরিচালনা হলে আরো কয়েকটি হাট চালু করা হবে। এতে দুই দেশের শিল্প-বানিজ্যের সম্ভাবনার দ্বার যেমন খুলে যাবে তেমনি বন্ধুত্বের বন্ধন আরো সুদৃঢ় হবে।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বানিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ, ভারতের বানিজ্যমন্ত্রী নির্মালা সিতারাম, ত্রিপুরা রাজ্যের এমপি জীতেন্দ্র চৌধুরী, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য শিরিন আখতার।

ত্রিপুরা চেম্বার অব কমার্সের প্রিন্সিপাল রুনু রঞ্জনের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য জাহান আরা বেগম সুরমা, বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েত উল্লাহ মামুন, ফেনী জেলা প্রশাসক মো: হুমায়ুন কবীর খোন্দকার, পুলিশ সুপার মো: রেজাউল হক, ফেনী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বি.কম, ছাগলনাইয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ২০১০ সালের ১৩ জানুয়ারি ভারত সরকারের সাথে যে চুক্তি হয়েছিল সেই চুক্তির বাস্তবায়ন হিসেবে সীমান্ত হাট উদ্বোধন করা হয়েছে।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, সীমান্ত হাটের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছে তাতে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারিত হবে। মুজিব-ইন্দ্রিরা চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিও জানান তোফায়েল আহমেদ।

কেবি