অপরাধীকে ধরতে কিংবা অপরাধসংক্রান্ত অনুসন্ধান কাজে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাধারণত প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করে থকে। কিন্তু যুক্তরাজ্যের সেনাবাহিনীতে ছাগলও নিয়োগ করা হয়ে থাকে। তবে এ ছাগল ব্যবহার হয় কুচকাওয়াজ, স্মরণানুষ্ঠান বা এ জাতীয় অনুষ্ঠানে।
সম্প্রতি সে দেশে সেনাবাহিনীর রাজকীয় ওয়েলশ রেজিমেন্টে একটি ছাগল নিয়োগ করা হয়েছে। দেশটির রাজকীয় পশুপালনকেন্দ্র থেকে সেনাবাহিনীর প্রথম ব্যাটালিয়নে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ‘ফুসিলিয়ার লিওয়েলিন’ নামের ওই ছাগলকে। যুক্তরাজ্যের উইল্টশায়ারে লখনৌ সেনাঘাঁটি হবে তার কর্মস্থল। এ ঘাঁটিতেই সে থাকবে এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সেনাদের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে।
ব্রিটিশ সেনবাহিনীতে ছাগল নিয়োগের রীতি চলে আসছে অনেক আগে থেকেই। ১৮৪৪ সালে প্রথম রাজকীয় ছাগল প্রথা চালু হয় রানি ভিক্টোরিয়ার শাসনামলে। তবে ধারণা করা হয়, ১৭০০ সাল থেকেই যুক্তরাজ্যে সেনা কুচকাওয়াজে প্রাণীদের রাখা হতো।
এর আগে গত বছরের মে মাসে সেনাবাহিনীর দ্বিতীয় ব্যাটালিয়নে থাকা আরেকটি ছাগল ল্যান্স কর্পোরাল জি উইলিয়ামের মৃত্যুর পর তার জায়গায় নিয়োগ দেওয়া হলো লিওয়েলিনকে।
ছাগল বিভাগের মেজর ফুসিলিয়ার ম্যাথিউ আউনের অধীনে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ শেষ করে লিওয়েলিন। তার কাঁধে প্রথম যে দায়িত্ব পড়েছে তা হলো, ১৮৭৯ সালে সংঘটিত যুদ্ধের স্মরণে আয়োজিত কুচকাওয়াজে নেতৃত্ব দিতে হবে তাকে।
ব্রিটিশ সেনাবহিনীর পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়েছে, অত্যন্ত দুরূহ এক জরিপ শেষে রাজকীয় পশুপালনকেন্দ্র থেকে নির্বাচন করা হয়েছে লিওয়েলিন নামের ছাগলটিকে। এটি দেখতে অন্যান্য ছাগলের চেয়ে বেশি সম্ভাবনাময় মনে হওয়ায় তাকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
ছাগল বিভাগের প্রধানের অধীনে প্রতিদিন এটিকে ব্যায়াম করানো হবে। এ ছাড়া এর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত এবং এর স্বাস্থ্যও পরীক্ষা করা হবে। রেজিমেন্টে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাকে দিয়ে কাজ করানো হবে। যুক্তরাজ্যের রানির ৯০তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত কুচকাওয়াজে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
তথ্যসূত্র : বিবিসি অনলাইন।
এমএম





