ইরানের পার্চিন সামরিক স্থাপনা থেকে নমুনা সংগ্রহের সময় ইরানি প্রকৌশলীদের সঙ্গে জাতিসংঘের পরিদর্শকরাও উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছেন দুইজন পশ্চিমা কূটনীতিক।

এতে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের সই হওয়া পরমাণু চুক্তির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান পার্টির আপত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

ইরানের উপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিনিময়ে জুলাইয়ে ঐতিহাসিক ওই চুক্তিটি সই হয়।  

পার্চিনে পরমাণু অস্ত্র সম্পর্কিত পরীক্ষা করা হয়েছে, কয়েকটি দেশের এমন সন্দেহ নিরসনে এসব নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব নমুনা পরীক্ষা করলেই পরিষ্কার হওয়া যাবে এখানে পরমাণু অস্ত্র সম্পর্কিত কোনো পরীক্ষা করা হয়েছে কি না। 

নিজেদের পরমাণু প্রকল্প সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে নিয়োজিত দাবি করে পরমাণু অস্ত্র সম্পর্কিত সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইরান।

কিন্তু তারপরও চুক্তি অনুযায়ী তারা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের তাদের সন্দেহজনক স্থাপনাগুলোতে তল্লাশি করতে দিতে রাজি হয়েছে। 

যে দুইজন পশ্চিমা কূটনীতিক এসব কথা জানিয়েছেন, তারা ইরান ও আইএইএ-র মধ্যে পার্চিনে তল্লাশি চালানোর যে গোপন আয়োজন হয়েছে, তার বিস্তারিত জানেন।  

অগাস্টে এপি-র প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আইএইএ-র পরিদর্শকদের পার্চিন স্থাপনায় সম্ভবত প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না এবং সম্ভবত ইরানি প্রযুক্তিবিদদের দেওয়া তথ্য ও পরিবেশগত নমুনার উপরই নির্ভর করতে হবে। 

পরে একই বিষয়ের উপর আরেকটি প্রতিবেদনে এপি জানায়, তাদের আগের প্রতিবেদনে যে কথা বলা হয়েছিল তা প্রাথমিক একটি খসড়া সমঝোতার ভিত্তিতে করা এবং সমঝোতার ওই খসড়াটির বিষয়েও নিশ্চিত হতে পারেনি তারা। 

ইরানের পরমাণু বোমা তৈরির সন্দেহজনক প্রচেষ্টাকে রোধ করার ক্ষেত্রে পরিদর্শনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়টিকে বারাক ওবামা প্রশাসন ইরানের হাতে ছেড়ে দিয়েছে- এপির প্রতিবেদনকে প্রমাণ হিসেবে দাখিল করে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে এ অভিযোগ তোলেন রিপাবলিকানরা।  

আইএইএ-র প্রধান ইউকিয়া আমানো ওই প্রতিবেদনটিকে ‘ভুল উপস্থাপন’ আখ্যায়িত করে প্রত্যাখ্যান করেন। তবে বিষয়টির বিস্তারিত জানাতেও অস্বীকার করেন। তখন পার্চিনের বিষয়ে ইরান ও আইএইএ-র সমঝোতাকে ‘গোপন পার্শ্ব চুক্তি’ আখ্যা দেন কয়েকজন রিপাবলিকান নেতা। 

অপরদিকে ২০ অগাস্ট আমানো দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে করা সমঝোতাটিতে কোনো খুঁত নেই। তবে ইরান ও আইএইএ-র মধ্যে সই হওয়া সমঝোতাটি অপ্রকাশিতই থাকে। 

কিন্তু বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে পশ্চিমা ওই দুই কূটনীতিক জানিয়েছেন, ইরানিদের নমুনাগুলো সংগ্রহ করার অনুমোদন দেওয়া হলেও আইএইএ-র পরিদর্শকরা সেখানে সশরীরে উপস্থিত থাকবেন এবং ইরানি নমুনা সংগ্রাহকদের কাজের উপর সরাসরি নজরদারি করতে পারবেন।  

“ইরানিরা যেন মুখরক্ষা করতে পারে এবং অপরদিকে আইএইএ-ও যেন তল্লাশিতে তাদের কঠোর মনোভাব বজায় রাখতে পারে, এ বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে,” বলেছেন একজন কূটনীতিক।

“ইরানিরা নমুনা সংগ্রহের সময় আইএইএ-ও সেখানে থাকবে। আইএইএ-র মান বজায় রেখে পরিষ্কারভাবেই এটি করা হবে, তাই এখানে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই,” বলেন তিনি। 

“দুর্ভাগ্যবশত গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে ভুল ও বিকৃত তথ্য চলে এসেছে, তাতে মনে হয়েছে শুধু ইরানই নিজেদের স্থাপনায় তল্লাশি করবে, কিন্তু তা নয়,” যোগ করেন তিনি।  

তেহরানের ৩০ কিলোমিটার দূরে পার্চিন স্থাপনার তল্লাশিতে আইএইএ ও ইরানিদের যৌথ পরিদর্শক দল থাকবে, আর পুরো বিষয়টিকে অনুসরণ ও রেকর্ড করার জন্য কয়েকটি ক্যামেরাও সঙ্গে থাকবে বলে জানিয়েছেন ওই দুজন কূটনীতিক।

এএইচ