আগামীকাল শুক্রবার প্রকাশ করা হবে শান্তিতে নোবেল বিজয়ীর নাম। অনেক প্রতিক্ষীত এই পুরষ্কারের তালিকায় যারা প্রতিযোগী হিসেবে এগিয়ে আছেন তাদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলোতে।

প্রকাশিত এই নামের তালিকায় অনেক দিন ধরে কানাঘুষা করা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম না থাকলেও বিশ্ব নেতাদের মধ্যে থাকছেন জার্মানে পুনর্বার নির্বাচিত হওয়া এঞ্জেলা মর্কেল।

পাশাপাশি বিশ্বে শান্তি ও প্রগতির জন্য কাজ করে যাওয়া খ্রিস্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা পোপ ফ্রান্সিসও রয়েছেন।

এছাড়া এগিয়ে থাকা প্রতিযোগীতার তালিকায় একটা অর্থনৈতিক সংস্থাসহ আরো আছে সিরিয়ার সেচ্ছাসেবী সংগঠন হোয়াইট হেলমেট এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইরানের মাধ্যে একটি পারমাণবিক সমঝোতা চুক্তি।

কি কারণে এই পাঁচ প্রতিযোগীকে শান্তিতে নোবেল পুরষ্কারের তালিকায় নিয়ে আসা তার একটি বিবরণ নিম্নে তুলে ধরা হলো আন্তর্জাতিক মিডিয়া থেকে:-

১. পোপ ফ্রান্সিস: ৩১৮ জন থেকে বাছাই করে নিয়ে আসা প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে যাকে চিন্তা করা হচ্ছে তিনি হলেন পোপ ফ্রান্সিস।

২০১৩ সাল থেকে ধর্মীয় নেতা হওয়ার পরে প্রতি বছর কোন না কোন পুরষ্কার জয়ের তালিকায় নিজেকে রাখছেন পোপ ফ্রান্সিস।

এই বছরের আলোচিত ইস্যু শরণার্থী ও অভিবাসীদের প্রতি তার সমবেদনা ও সমাধানের জন্য বিশ্ববাসীর প্রতি তার উদাত্ত আহবান তাকে মনোনয়নের জন্য অনেকদূর এগিয়ে দিয়েছে। এ বিষয়ে যেকোন প্রতিযোগীর চেয়ে পোপ ফ্রান্সিস তুলনামূলক এগিয়ে আছে বলে মন্তব্য করেন ব্রিটিশ বেটিং কোম্পানি উইলিয়াম হিল।

২. এঞ্জেলা মর্কেল: বিশ্বে হাতেগোনা কয়েকজন বিশ্বনেতাদের তালিকা করলে যার নাম অবশ্যই রাখা উচিত তিনি এঞ্জেলা মর্কেল। কয়েকদিন আগেও পুনরায় জয়ের মাধ্যমে নিজের বিশ্বজনপ্রিয়তা প্রমাণ করেছেন এই জার্মান চ্যান্সেলর।

২০১৫ সালে পুরো ইউরোপ মহাদেশে শরণার্থী সংকটের সময় তিনি জার্মানিতে ১ মিলিয়ন বা দশ লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ার ঘোষণা দেন।

পাশাপাশি তার অবস্থান ও মানবিকতা জোরালোভাবে নিশ্চিত করার মাধ্যমে ২০১৫ সালে টাইম ম্যাগাজিনে 'পার্সন অফ দ্যা ইয়ার' নির্বাচিত হন তিনি। তাই তার আশাও জোরালো ভাবে দেখছেন নোবেল বিশ্লেষকরা।

৩. হোয়াইট হেলমেট: এটি সিরিয়ার একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠন। যাদেরকে সিরিয়ান সিভিল ডিফেন্স বা হোয়ইট হেলমেট বলে ডাকা হয়। বর্তমান পৃথিবীতে বিশ্ব মানবতার সংকট যে জায়গায় সবচেয়ে বেশি দেখা দিয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো সিরিয়া্।

যেকোন সময় হামলার শিকার এই দেশটিতে যারা সবসময় বোমা থেকে মানুষকে বাঁচানোর জন্য দৌড়ে এগিয়ে আসে তারা হলেন এই হোয়াইট হেলমেট।

তাদের ভাষ্যমতে ২০১১ সাল থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে সিরিয়াতে এই পর্যন্ত প্রায় ৯৯০০০ মানুষের জীবন বাঁচাতে তারা সক্ষম হয়েছে। মানবতার জন্য তাদের এই কর্মকান্ড তাদেরকে শান্তির জন্য অনেকদূর এগিয়ে দিয়েছে।

৪. ফেডেরিকা মোগহেরিনি এবং মোহাম্মদ জাবেদ: ২০১৫ সালে আমেরিকার এবং ইরানের ভিতর পারমাণবিক বিষয়ে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। যা এক পর্যায়ে সহিংসতার দিকে মোড় নেওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়।

যার ফলে একটি পারমাণবিক সমঝোতা চুক্তি জরুরী হয়ে পড়ে। এই সমঝোতা চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভূমিকা পালন করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিদেশ বিষয়ক প্রধান ফেডারিকা মোগহেরিনি ও ইরানের অন্যতম স্থপতি মোহাম্মদ জাবেদ।

এই চুক্তির আওতায় ইরান সম্ভাব্য ইউরেনিয়াম ভিত্তিক অস্ত্র উৎপাদন কমিয়ে দেয়া এবং পারমাণবিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে আন্তর্জাতিক পর্ষবেক্ষকদের অভ্যন্তরীণ পারমাণবিক ভিত্তিক উৎপাদনগুলো পর্যবেক্ষণ করার অনুমতি দেয়। যার কারণে এটি উল্লেখযোগ্য ডিল বা চুক্তি হিসেবে ভূমিকা পালন করে।

৫. ইকোয়াস: এটি একটি পশ্চিম অাফ্রিকা ভিত্তিক একটি অর্থনৈতিক সংস্থা। এর আওয়াত আফ্রিকার বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলগুলোর অর্থনৈতিক কার্যক্রম ও সার্বিক সহযোগিতা করা হয়।

এগিয়ে থাকা এই ৫ ব্যক্তি ও সংস্থাদের মধ্যে আগামিকাল ঘোষণা করা হবে চূড়ান্ত নোবেল বিজয়ীর নাম।

জেড