পরমাণু অস্ত্র সম্পর্কে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ফতোয়াকে গুরুত্ব দেয়ার জন্য মার্কিন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির ক্যাথলিক বিশপরা।
তারা বলেছেন, ইরানের সঙ্গে পরমাণু আলোচনা করার সময় সর্বোচ্চ নেতার ফতোয়াকে যেন অবমূল্যায়ন করা না হয়।
ইরানের সঙ্গে ছয় জাতিগোষ্ঠীর সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের নির্ধারিত সময়সীমা আসতে যখন একমাসেরও কম সময় বাকি রয়েছে তখন একথা বললেন মার্কিন খ্রিষ্টান ধর্মযাজকরা।
আগামী ২৪ নভেম্বরের মধ্যে ইরানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরের চেষ্টা করছে আমেরিকার নেতৃত্বাধীন ছয় জাতিগোষ্ঠী।
আমেরিকার বিশপদের সংগঠন ইউএস কনফারেন্স অব ক্যাথলিক বিশপ্স বা ইউএসসিসিবি’র একটি শক্তিশালী প্রতিনিধিদল গত এপ্রিলে ইরান সফর করেন। তারা ইরানের ধর্মীয় নগরী কোম সফরে যান এবং সেখানে বিশিষ্ট আলেমদের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সম্পর্কে গতকাল (বুধবার) ইউএসসিসিবি’র একটি কমিটির চেয়ারম্যান বিশপ রিচার্ড প্যাটস বলেন, ইরানি জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাসকে অবমূল্যায়ন করছে আমেরিকা ও পাশ্চাত্য। তারা যে জীবন দিয়ে হলেও তাদের ধর্মীয় নেতাদের ফতোয়া মেনে চলে এটি পাশ্চাত্যকে বুঝতে হবে।
তিনি বলেন, শিয়া আলেমরা পরমাণু অস্ত্রের ঘোর বিরোধী এবং তারা এ ধরনের অস্ত্র তৈরি করতে দেবেন না।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী ২০০৩ সালে দেয়া এক ফতোয়ায় পরমাণু অস্ত্র উৎপাদন, সংরক্ষণ ও ব্যবহারকে হারাম বা নিষিদ্ধ বলে উল্লেখ করেন। এরপর গত বছরগুলোতে তিনি বহুবার এ ফতোয়ার কথা পুনরুল্লেখ করেছেন।
সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তার এ ফতোয়া মেনে চলতে বাধ্য ইরান সরকার। কাজেই দেশটির শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচি সম্পর্কে পাশ্চাত্য যে সন্দেহে ভুগছে তা ঝেড়ে ফেলার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন ক্যাথলিক বিশপরা।
ইরান শুরু থেকেই বলে আসছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ এ ধরনের শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের লক্ষ্যে পরমাণু কর্মসূচি পরিচালনা করছে দেশটি।
কিন্তু আমেরিকা ও ইহুদিবাদী ইসরাইল দাবি করছে, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। এ ভিত্তিহীন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তেহরানের সঙ্গে একটি পরমাণু চুক্তি সই করার জন্য বর্তমানে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করছে জাতিসংঘের পাঁচ স্থায়ী সদস্যদেশ ও জার্মানিকে নিয়ে গঠিত ছয় জাতিগোষ্ঠী।রেডিও তেহরান
ইআর





