উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইসলাম করিমভকে শনিবার কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শেষ বিদায় জানানো হয়েছে। শুক্রবার রাতে ৭৮ বয়সী প্রেসিডেন্টের মৃত্যুর কথা ঘোষণা দেয়া হয়।
কর্তৃপক্ষ জানায়, গত সপ্তাহে স্ট্রোকের পর করিমভ কোমায় ছিলেন।
শনিবার করিমভের নিজ শহর সমরখন্দে নামাজে জানাজার পর একটি স্থানীয় কবরস্থানে পরিবারের অন্য সদস্যদের পাশে তার দাফন সম্পন্ন হয়। দাফনের আগে সর্ব সাধারণের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের জন্য তার কফিন সিটি স্কয়ারে রাখা হয়।
রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ, তাজিখ প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রাখমন, তুর্কমেন প্রেসিডেন্ট গুর্বাঙ্গুলি বের্দিমুখামেদভ এবং কিরগিস্তান, বেলারুস ও কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রীগণ তার শেষকৃত্যানষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করেন। দেশে তিন দিনের রাষ্টীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
শুক্রবার উজবেকিস্তান সরকারিভাবে ঘোষণা করার আগেই তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী প্রেসিডেন্ট করিমভ মারা গেছেন বলে জানিয়েছিলেন, তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছিলেন।
উজবেকিস্তানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রথম তার গুরুতর অসুস্থতার খবর দিয়ে বলা হয়, স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর গত ২৪ ঘণ্টায় তার অবস্থার অবনতি ঘটেছে।
ইসলাম করিমভ গত ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে উজবেকিস্তানের শাসন ক্ষমতায় ছিলেন। তার স্থলাভিষিক্ত কে হবেন তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে সম্ভাব্য উত্তরসূরী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শাভকাত মিরজিয়ায়েভ দাফন আয়োজন কমিটির প্রধান হয়েছেন।
উজবেকিস্তানের আইন অনুযায়ী সিনেটপ্রধান নিগমাতুল্লা য়ুলদাশেভ আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠান পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন।
১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর সেখান থেকে বেরিয়ে আসা উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন সাবেক কমিউনিস্ট নেতা ইসলাম আবদুগানিয়েভিচ করিমভ। উজবেকিস্তানে সেটাই ছিল সর্বশেষ সত্যিকারের নির্বাচন। ক্ষমতায় আসার পর তিনি সমালোচক এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের জেলে ভরতে শুরু করেন, নির্বাসনে পাঠান অনেককে।
কট্টরপন্থী ইসলামী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক আছে সন্দেহে হাজার হাজার মুসলমানকে তিনি কারাবন্দী করেন। তিনি দাবি করেন যে উজবেকিস্তান তাদের মতো করে গণতন্ত্রের চর্চা করছে।
তবে এই গণতন্ত্রে বাকস্বাধীনতা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার কোন বালাই নেই।
১৯৯৯ সালে ইসলাম করিমভ এক হত্যা প্রচেষ্টা থেকে বেঁচে যান। কিন্তু এরপর তিনি বিরোধীদের ওপর দমন-নিপীড়ন আরও তীব্র করেন।
২০০৫ সালে আনদিজানে এক সরকার বিরোধী গণবিক্ষোভ দমন করা হয় নির্মমভাবে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানায়, সেখানে শত শত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীকে সৈন্যরা হত্যা করে।
তার অবর্তমানে কে উজবেকিস্তানের হাল ধরবেন সেটা এখন বড় প্রশ্ন। একসময় তার বড় মেয়ে গুলনারাকেই সম্ভাব্য উত্তরসূরী বলে ভাবা হতো। কিন্তু নানা রকম ব্যবসায়িক কেলেংকারি এবং বিলাসবহুল জীবনযাপনের কারণে তার সেই সম্ভাবনা আর নেই। তাকে এখন গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে।
এসএ





