নিউইয়র্কে জ্যামাইকায় আবারো হামলার শিকার হয়েছেন দু’বাংলাদেশী। ঘটনার পরপর দু’হামলাকারীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ওই হামলায় ফুঁসে ওঠেছে বাংলাদেশী কমিউনিটি। এর প্রতিবাদে স্থানীয় সময় ৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় পালন করা হয় বিক্ষোভ কর্মসূচি। গত ৫ নভেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশী অধ্যুষিত জ্যামাইকার হিলসাইড এভিনিউ এবং কুইন্স বুলেবার্ডে স্প্যানিশদের হামলায় রক্তাক্ত হন বাংলাদেশী দু’সহোদর আলমগীর হুসেইন এবং আলাউদ্দিন হুসেইন। কয়েকজন স্প্যানিক যুবক তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়। কুইন্সের ওজন পার্কের বাসিন্দা আহত আলমগীর ও আলাউদ্দিনের বাড়ি বাংলাদেশের মৌলভী বাজারে।

আহত আলাউদ্দিন জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় আলমগীর এবং আলাউদ্দিন ওই এলাকায় নিজেদের কর্মস্থলের পাশে একটি গাড়ির ওয়াশিং দোকানের সামনের অংশে লিগ্যাল পার্কিং এ তারা গাড়ি পার্ক করেন। গাড়ি রেখে কিছু দূর যাবার পর দেখেন তাদের গাড়ির চাকার পাম্প ছেড়ে দিয়েছে ওই ওয়াশিং দোকানের একজন স্প্যানিশ কর্মচারি। একভাই গিয়ে কেন চাকার বাতাস ছেড়ে দেয়া হলো জিজ্ঞেস করতেই স্প্যানিশ যুবকটি রেগে তাকে আক্রমণ করে। এই অবস্থায় আরেক ভাই এগিয়ে গেলে দোকানের চার জন স্প্যানিশ কর্মচারি রডও লোহার চেইন দিয়ে তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। আহত অবস্থায় তাদের কুইন্সের জ্যামাইকা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আলমগীরের শরীরে অস্ত্র পাচার করা হয়েছে। আলাউদ্দিনকে গত ৬ নভেম্বও প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেয়া হয়।

এদিকে, কুইন্সে ইমাম আলাউদ্দিন আকুঞ্জি, তারা মিয়া ও নাজমা হত্যা কান্ডের পর নতুন করে আরো দুই বাংলাদেশী যুবকের ওপর হামলার ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে কমিউনিটি। এর প্রতিবাদে ঘটনাস্থল কুইন্সের হিলসাইডের ওপরে ব্যারিউডে গত ৬ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় পালন করা হয় বিক্ষোভ কর্মসূচি।

এতে ব্রঙ্কস কমিউনিটি বোর্ডের ফাস্ট ভাইস চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ-আমেরিকান কমিউনিটি কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আইনজীবী মোহাম্মদ এন মজুমদার মাস্টার অব ল, স্থানীয় কমিউনিটি বোর্ড মেম্বার ও জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ড সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, এসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ৮৭ এর জুডিশিয়াল ডেলিগেট ও বাংলাদেশী আমেরিকান উইম্যান এসোসিয়েশন’র প্রেসিডেন্ট রেক্সোনা মজুমদারসহ জ্যামাইকা, ওজন পার্ক, ব্রঙ্কসসহ বিভিন্ন কমিউনিটির নেতারা অংশগ্রহণ করেন।

প্রতিবাদ সমাবেশে হামলা বিরোধী বিভিন্ন শ্লোগান সম্বলিত প্ল্যা কার্ড বহন করা হয়। এসময় সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্লোগান দেয়া হয়। সমাবেশকারীরা ইতোপূর্বের বেশ কটি হামলার ঘটনা উল্লেখ করে তারা এসব বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সিটি প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান। দু’বাংলাদেশী তরুণের ওপর হামলার ঘটনাকে নেতৃবৃন্দ হেইট ক্রাইম বলে ধারনা করছেন।

জেড