পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আফগানিস্তানে সামরিক অভিযানের জন্য মার্কিন বাহিনীকে পাকিস্তানের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়ার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আফগানিস্তান যুদ্ধে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত ছিলো ‘মূর্খতা’।
গত ৩০ জুন (বুধবার) পাকিস্তানের পার্লামেন্টে এসব কথা বলেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তিনি বলেন, ওই সিদ্ধান্তের কারণে পাকিস্তানকে প্রচুর পস্তাতে হয়েছে এবং এর জের ধরেই দেশটির নিরাপত্তা ও অর্থনীতি মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
তিনি বলেন, আমরা শান্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার হতে পারি এবং চিরকাল থাকতেও পারি। কিন্তু আর কোনোদিনই যুদ্ধে তাদের সঙ্গী হতে পারব না।
খানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের কথায় আফগান যুদ্ধে অংশ নেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের দেশেই পাল্টা জঙ্গি হামলা বেড়ে যায়। এরপর থেকে আত্মঘাতী বোমাহামলাসহ বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী হামলায় ৭০ হাজারের বেশি পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং তাদের অন্তত ১৫ হাজার কোটি ডলারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, ‘ইসলামাবাদের ত্যাগ-তীতিক্ষার প্রশংসা না করে উল্টো ‘হিপোক্রেট’ (ভণ্ড) বলে গালি দিয়েছে ওয়াশিংটন এবং পাকিস্তানের সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।’
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট আফগানিস্তানে অভিযান চালিয়ে তালেবানকে ক্ষমতাচ্যুত করে। তাদের বিরুদ্ধে ৯/১১ হামলায় জড়িত আল-কায়েদাকে সহযোগিতার অভিযোগ তুলেছিল ওয়াশিংটন। তবে অভিযান শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্কেও উত্থান-পতন শুরু হয়।
ওয়াশিংটন বরাবরই অভিযোগ করেছে, কোটি কোটি ডলারের মার্কিন সহযোগিতা পেয়েও পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো গোপনে তালেবানকেই সমর্থন এবং আশ্রয় দিয়েছে। তবে ইসলামাবাদ বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
৩০ জুন (বুধবার) পাক প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যেই আফগানিস্তান থেকে মার্কিন বাহিনী দ্রুত প্রত্যাহারে বাইডেন প্রশাসনের সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেন। পাশাপাশি, তালেবানকে সমঝোতায় রাজি করাতে পাকিস্তানকে তার ‘বিশেষ সুবিধা’ ব্যবহার করতে মার্কিন প্রস্তাবেরও নিন্দা জানান।
ইমরান খান বিষয়টি ব্যাখ্যা করে জানান, তার দেশ তালেবানের ওপর একমাত্র যে ‘বিশেষ সুবিধা’ ব্যবহার করতে পারে তা হলো পাকিস্তানে বসবাসরত তাদের পরিবার।
তিনি বলেন, [তালেবান] পরিবারগুলোকে কি গ্রেফতার করতে হবে? [যুক্তরাষ্ট্র] আর কী আশা করে… পাকিস্তান কী করবে? তথ্যসূত্র: ভয়েস অব আমেরিকার।
এইচএন





