ক্ষমতায় থাকাকালে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে নির্মমভাবে হত্যার দায়ে চাদের সাবেক শাসক হিসেন হাবরের বিচার শুরু হচ্ছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তাকে ‘আফ্রিকার পিনোশে’ বলে মন্তব্য করেছিল।

সোমবার তার বিচার শুরু হচ্ছে। তিনিই হচ্ছেন আফ্রিকার কোনো নেতা মানতাবিরোধী অপরাধে যার বিচার শুরু হচ্ছে।

আফ্রিকায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় একে মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।হাবরে ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত চাদের শাসক ছিলেন।

সেনেগালের আদালতে তার বিচার হবে। আফ্রিকান ইউনিয়ন এই বিচারে সম্মতি দিয়েছে।সেনেগালে এই প্রথম বিদেশের মাটিতে কোনো বিদেশির অপরাধের বিচার হচ্ছে।

হেবরের বিচার নিয়ে ১৯৯৯ সাল থেকে সোচ্চার ছিল হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সংস্থাটি তার বিচারকে স্বাগত জানিয়েছে।

গত ২২ বছর ধরে সেনেগালে নির্বাসিত ছিলেন হাবরে। জুলাইয়ের প্রথম দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

১৯৯২ সালে প্রকাশিত চাদের ট্রুথ কমিশনের হিসেবে, হাবরের সরকার প্রায় ৪০,০০০ লোকের হত্যার জন্য দায়ী।

এসব মৃত্যুর জন্য চাদের পুলিশ বাহিনী ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থাকে দায়ী করেছে কমিশন।

১০ সদস্য বিশিষ্ট ওই কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, পিটুনি, অগ্নিদগ্ধ, নখ তুলে ফেলাসহ নানা ধরনের নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হতো।

হেবরের বিচারের জন্য ১ কোটি ডলার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, বেলজিয়াম, জার্মানি, ফ্রান্স, লুক্সেমবার্গ, আফ্রিকান ইউনিয়ন এবং চাদ।

বিচার পরিচালনা করবেন সেনেগাল ও আফ্রিকার বিচারপতিরা। এতে শত শত লোক সাক্ষী দিবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে হাবরের আইনজীবীরা এই বিচারকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বলে অভিযোগ তুলেছেন।সূত্র: আলজাজিরা

এসএইচ