এ যেন এক মর্মান্তিক দৃশ্য। ছবিটি দেখলে আবেগ দমিয়ে রাখতে পারবেন না কোনো সুস্থ মানুষই। নদীর তীরে পড়ে আছে একটি দুগ্ধপোষ্য শিশু। দেখে মনে হবে, হাত-পা ছড়িয়ে ঘুমিয়ে আছে সে। কিন্তু সে ঘুম যে আর ভাঙার নয়।
নদীর তীরে পড়ে রয়েছে। ঠিক মনে হচ্ছে খেলতে খেলতেই যেন পাড়ি দিয়েছে নিরবিচ্ছিন্ন সেই ঘুমের দেশে। বৃহস্পতিবার অর্জুনের মরদেহ দেহ ভেসে আসে।
ছবিটি ভারতের বিহার প্রদেশের মুজাফ্ফরপুর জেলার। বাগমতী নদীর পাড়ে তিন বছরের অর্জুনের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে স্তম্ভিত অন্তর্জালবাসী। ভারতের বিহারে বন্যার শিকার ৩ বছরের অর্জুনের ভেসে আসা সেই নিথর দেহ দেখে বুক ফাটছে দেশবাসীর।
গত বুধবার মির্জাপুর জেলার শীতলপট্টি এলাকার এক মা তার চার সন্তানকে নিয়ে বাগমতী নদী এসেছিলেন। বাসন মাজা, কাপড় কাচা, স্নান করা ইত্যাদি ঘরের কাজ সারছিলেন রানি দেবী নামের ওই নারী।
সে সময় প্রবল ঢেউয়ে ভেসে যায় অর্জুন। অর্জুনকে বাঁচানোর অনেক চেষ্টা করেন রানি। তিন সন্তান নিয়ে ঝাঁপ দেন নদীতে। সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের মানুষ তাদের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন। কোনওমতে রানি দেবী ও তার এক মেয়ে রাধাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। অর্জুন, রাজা ও জ্যোতি ভেসে যায় নদীতে।
এরপর বৃহস্পতিবার অর্জুনের মরদেহ দেহ ভেসে আসে। এখনও পর্যন্ত বন্যায় সমগ্র বিহারে ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৪৬ লাখের ও বেশি মানুষ।
এখনও পর্যন্ত বন্যায় সমগ্র বিহারে ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৪৬ লাখের ও বেশি মানুষ।
কিছুদিন আগেই জলে ভেসে উঠেছিল বাবা ও মেয়ের নিথর দেহ। শেষ সময়েও বাবার টি-শার্টের মধ্যে মুখ গুঁজে ছিল ঠোট্ট মেয়েটি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর সীমান্তের রিও গ্রান্ডে নদীতে ভেসে ওঠা ওই ছবি গোটা পৃথিবীকে নাড়িয়ে দিয়েছিল।
আর কয়েক বছর আগে সিরিয়ায় সমুদ্রের বালিতে মুখ গুঁজে পড়ে থাকা আয়লান কুর্দির ছবি তো সিরিয়ার উদ্বাস্তু সমস্যার এক প্রতীক হয়ে গিয়েছিলো। যেটি সমগ্র বিশ্ববাসীকে নড়া দিয়েছিলো। জানিয়ে দিয়েছিলো মানবতাহীন এক পৃথিবীর বর্তমান অবস্থা।
এএস





