ইরাক ও সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটসহ (আইএস) অন্যান্য সশস্ত্র গ্রুপগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার বিষয়টি অনুমোদন করেছে তুরস্কের পার্লামেন্ট। ফলে, তুরস্কের সামরিক বাহিনী যেকোন সময় ইরাক ও সিরিয়ায় গিয়ে হামলা শুরু করতে পারে। খবর আল জাজিরার।
এ বিল পাশের মধ্য দিয়ে আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পশ্চিমা শক্তিগুলোর সঙ্গে তুরস্কও যোগ দিল। বৃহস্পতিবার তুরস্কের পার্লামেন্টে প্রস্তাবটি ২৯৮ বনাম ৯৮ ভোটে পাস হয়। শুধু তাই নয় এই বিলটি অনুমোদনের মাধ্যমে বিদেশি সেনাদেরকেও সেদেশের ভূমি ব্যবহার করার সুযোগ দেয়া হয়েছে।
তবে তুরস্কের সংসদে পাশ হওয়া এ বিলে আইএস’র নাম উল্লেখ করে সরাসরি কিছু বলা হয়নি। এ বিলের ব্যাপারে তুরস্কে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছ এবং একেক জন একেকভাবে এটাকে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করছেন।
অনেকের মতে, তুরস্ক সংসদের এ পদক্ষেপের ফলে পিকেকে গেরিলা কিংবা দেশের বাইরে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আবার অনেকে এটাকে সিরিয়ার উত্তরে বিমান উড্ডয়ন নিষিদ্ধ এলাকা বা ‘নো ফ্লাই জোন’ সৃষ্টির জন্য আঙ্কারার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
তুরস্কের সরকার বিরোধী পিপলস রিপাবলিক দলের নেতা কামাল কালিচদার ওগলুর মতো অনেক ব্যক্তিত্বরা মনে করেন, আইএস'কে মোকাবেলা করতে ইরাক ও সিরিয়ায় হামলা চালানোর জন্য তুরস্ক বিদেশিদেরকে তার ভূমি ব্যবহার করতে দেয়ার কথা বললেও তাদের সবার মূল লক্ষ্য হচ্ছে সিরিয়ার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা এবং আসাদ সরকারকে উৎখাত করা। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য হচ্ছে একটি চোরাবালির মত। তাই তুরস্ক সরকারের উচিত হবে না এই চোরাবালিতে পা দেয়া।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিনে সিরিয়ার সীমান্ত থেকে তুরস্কের মাটিতে মর্টারের গোলা নিক্ষেপ করে ইসলামিক স্টেট বা আইএস। এতে তুরস্কের বেসামরিক বেশ কয়েকজন নাগরিক হতাহত হন। এর ফলেই তুরস্ক তার নিজের ভূখণ্ডকে নিরাপদ করতেই আইএস'র বিরুদ্ধে হামলা চালাতে এ বিল অনুমোদন করলো। সূত্র: আল জাজিরা
এসএমএ





