নৈসর্গিক সৌন্দর্যের এক অপরূপ লীলাভূমি পার্বত্য জেলা চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি। এখানে পাহাড়ের কোল ঘেঁসে ঘুমিয়ে থাকে শান্ত জলের হ্রদ। নদী বয়ে চলে তার আপন মনে। সীমানার ওপারে নীল আকাশ যেন চুমু খায় নদী আর পাহাড়ের বুকে। এখানে চলে পাহাড় নদী আর হ্রদের এক অপূর্ব মিলনমেলা। নদীর বাঁকে বাঁকে বাতাস সুর তোলে আপন মনে। প্রাকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ নয়নে শুধু চেয়ে থাকতে হয় অসহায় মানুষ হয়ে। চারপাশ দেখে মনে হয় আঁকা কোনো জল রঙের ছবি। এখানকার প্রতিটি পরতে পরতে লুকিয়ে আছে অদেখা এক ভূবন যেখান আপনার জন্য অপেক্ষা করছে নয়নাভিরাম দৃশ্যপট।
অপরাপর পার্বত্য জেলার মতো এ শহরও সৌন্দর্য পিপাসু পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় এবং মনোমুগ্ধকর। অসংখ্য মানুষ ও পর্যটক উপস্থিত হয় রাঙ্গামাটির অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে।
বছরের বিশেষ মৌসুমে বিভিন্ন রকম আয়োজনে রাঙামাটির পাহাড় টীলা, ঝুলন্ত সেতু, রাজবিহার, সুভলং-এর ঝর্ণাধারা, চাকমা রাজবাড়ি, সীতা পাহাড়, রাম পাহাড়, বর্ণাঢ্য ও বৈচিত্র্যময় উপজাতিদের জীবনধারা এবং ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি সবকিছুই—কেবল পর্যটকই নয়, যে কাউকে মোহিত করবে নিঃসন্দেহে এটা বলা যায়।

চিত্তবিনোদন মানুষের জীবনধারার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। সমাজ ও সভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে জীবন ও জীবিকার জন্য মানুষের ব্যস্ততা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। এ ব্যস্ততা থেকে মুক্তি পেতে মানুষ ছুটে যায় প্রকৃতি ও অরণ্যের নীরবতার কাছে। আপনিও ঘুরে আসুন, বেড়িয়ে আসুন পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির অপূর্ব সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে। প্রকৃতির এমন বিচিত্ররূপ বাংলাদেশের আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না।
বাঙালী আর উপজাতি সম্প্রদায়ের সৌন্দর্যপূর্ণ অবস্থান যে রয়েছে তার ওপর চলতে-ফিরতে চাকমা, ম্রো, টিপরা, মারমা, তংচঙ্গাসহ বেশ ক’টি উপজাতির পুরুষ ও নারীকে দেখা যায়। তাদের মধ্যে রয়েছে বাঙালি সংস্কৃতি। রাঙ্গামাটিতে অবস্থান নেবার পর ভেদাভেদি অঞ্চলে পাহাড়ের চূড়ায় উঠে সূর্য অস্ত দেখা কিংবা ছবি তোলার মনোরম পরিবেশ পাওয়া যায়।
পাহাড় থেকে নেমে আসা একাধিক ঝর্ণাধারা পর্যটকদের মন আকর্ষণ করে। দেখার মতো আরো রয়েছে পুরনো ঐতিহ্যমণ্ডিত চাকমা পল্লী, পার্ক। পার্কে বসে কর্ণফুলী লেকের দৃশ্য অবলোকন করা যায়। রাঙ্গামাটির সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী ও সুউচ্চ সীতা পাহাড় ও রাম পাহাড়। অফুরন্ত সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্রের রসাস্বাদনের জন্য রাঙ্গামাটিতে যে কেউ ঘুরে আসলে ভালো লাগবে। ক্যামেরা নিয়ে ভালোবাসার জনরা মিলেমিশে স্মৃতির এ্যালবামে সাজানো অন্তরঙ্গ মূহর্তগুলোর একটি স্মৃতির দিন বন্দি করা যায়।
রাঙ্গামাটি এসে স্থানীয় আদিবাসীদের খাবার না খেলে পুরো ভ্রমণটাই অপূর্ণ থেকে যাবে। তাই ইচ্ছে করলে এবং যদি কপাল ভাল হয় তবে আপনিও স্বাদ নিতে পারেন আদিবাসীদের হরেক রকম খাবারের। এদের অনেকগুলো পদের মধ্যে কয়েকটি খাবারের পদ খুবই ভিন্ন প্রকৃতির ও সুস্বাদু। আপনি যে কোনো হেটেলেই এসব খাবার পাবেন না। তাই রাঙামাটি গেলে অবশ্যই আদিবাসিদের খাবার খাওয়ার জন্য বলব সবাইকে।
কেএইচ





