আফগান শান্তি আলোচনা যথাসম্ভব দ্রুত ফের শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান সরকার ও সফররত তালেবান প্রতিনিধিদল।

আফগানিস্তানে ১৮ বছরের যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে তালেবানের সাথে চলমান শান্তি আলোচনা গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বতিল ঘোষণার পর গতকাল ইসলামাবাদে এ আহ্বান জানানো হয়। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি তালেবান প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে এ কথা জানান।

কুরেশি বলেন, শান্তিপ্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ে ফের শুরু করার প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে একমত হয়েছে উভয় পক্ষ।

আঞ্চলিক পরিস্থিতি, আফগানিস্তানের শান্তিপ্রক্রিয়া ও পারস্পরিক স্বার্থসংক্রান্ত অন্যান্য ইস্যুতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশির সাথে আলোচনা করেছেন আফগানিস্তানের তালেবানের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ওই প্রতিনিধিদলকে রাজধানী ইসলামাবাদে স্বাগত জানান কুরেশি। এই প্রতিনিধিদল তালেবান পলিটিক্যাল কমিশন ইন দোহা (টিপিসি) হিসেবে পরিচিত।

কুরেশির সাথে তাদের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফায়েজ হামিদ, পররাষ্ট্র সচিব সোহেল মাহমুদ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্য কর্মকর্তারা। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, পিটিসি প্রতিষ্ঠার পর এটাই তালেবান প্রতিনিধিদলের প্রথম পাকিস্তান সফর। আগেভাগে মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানের মধ্যে অচল হয়ে পড়া শান্তি আলোচনার অগ্রগতি কতদূর তা জানতে ইসলামাবাদে পৌঁছাবেন আফগান তালেবানের প্রতিনিধিদল।

বৃহস্পতিবার তালেবানের সাথে বৈঠকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুরেশি বলেছেন, গত ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে আফগানিস্তানের অস্থিতিশীলতার পরিণতি উভয় দেশই সমানভাবে মোকাবেলা করছে। তিনি আরো বলেন, পাকিস্তান বুঝতে পারে যে, যেকোনো সমস্যার সমাধান যুদ্ধ নয়। তাই আফগানিস্তানে শাস্তি স্থাপন করতে হলে একমাত্র সম্ভাব্য উপায় ও ইতিবাচক উপায় হতে পারে সমঝোতা।

শাহ মাহমুদ কুরেশি বলেছেন, আফগানিস্তানে শান্তিপ্রতিষ্ঠায় অগ্রগতি আনতে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, পুরো অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য শান্তিপূর্ণ আফগানিস্তান অত্যাবশ্যক। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সব পক্ষই আলোচনা শুরু করবে এবং আরো পশ্চাতের দিকে না গিয়ে যথাযথ শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য কাজ করবে। কুরেশি উল্লেখ করেন, আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করে আফগান তালেবান প্রতিনিধিরা। এ সময় বৈঠকে উপস্থিত সবাই দ্রুততার সাথে আলোচনা শুরুর বিষয়ে একমত প্রকাশ করেন।

এক দিন আগে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয় পাকিস্তান সফরের জন্য তালেবান পলিটিক্যাল কমিশন ইন দোহার একটি প্রতিনিধিদলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এ ঘোষণার সামান্য আগে তালেবান মুখপাত্র সোহেল শাহিন জানান, তাদের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন তালেবানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও কাতারে তাদের রাজনৈতিক অফিসের প্রধান মোল্লা আবদুল গনি বারাদার। এই সফর যখন ঘটছে তখন খবর পাওয়া যাচ্ছে আফগান শান্তিপ্রক্রিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত জালমে খলিলজাদ অবস্থান করছেন পাকিস্তানে।

দোহাভিত্তিক তালেবানের মুখপাত্র শাহিন বলেছেন, জালমে খলিলজাদ ও তালেবান প্রতিনিধিদের পাশাপাশি সময়ে পাকিস্তান সফর কাকতালীয়। এ সময় তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, খলিলজাদের সাথে তাদের কোনো সাক্ষাৎ হওয়ার সম্ভাব্যতা আছে কি না? জবাবে শাহিন বলেন, কেন নয়? এটা নির্ভর করে মার্কিনিদের ওপর।

পাকিস্তানের সামরিক ও বেসামরিক নেতাদের সাথে আফগানিস্তানের তালেবানের সাথে শান্তি আলোচনা নিয়ে কথা বলতে মঙ্গলবার ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন খলিলজাদ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ওই শান্তিপ্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করতে ইসলামাবাদে যাননি খলিলজাদ। সূত্র : রয়টার্স।

এমআর