লেখক-প্রকাশক ও বিদেশী নাগরিকসহ একের পর এক হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

সোমবার ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের উপ-মুখপাত্র মার্ক টোনার এক নিয়মিত সংবাদ বিফ্রিংয়ে বাংলাদেশে লেখক-প্রকাশকসহ অন্যদের ওপর এসব হামলার ঘটনাকে লোমহর্ষকবলে মন্তব্য করেন।

এ ধরনের কয়েকটি হামলার ঘটনার পরপর যুক্তরাষ্ট্র এসব ঘটনা তদন্তে এফবিআই এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানান তিনি।

সাম্প্রতিক কয়েক বছরের মধ্যে বাংলাদেশে প্রায় সাতজন ব্লগার বা অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিষয়ে ধারণা জানতে চাওয়া হলে এ কথা বলেন মার্ক টোনার।

২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ব্লগার রাজিব হায়দারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর গত বছর ফেব্রুয়ারির বইমেলা চলাকালীন একই কায়দায় কুপিয়ে হত্যা করা হয় অভিজিৎ রায়কে।

এরপর নিয়মিত বিরতিতে কয়েকজন ব্লগার বা অনলাইন অ্যাকটিভিস্টের পাশাপাশি কয়েকজন বিদেশীসহ কয়েকজন ধর্মগুরুকেও একই কায়দায় হত্যা করার ঘটনা ঘটে।

সর্বশেষ গত ৬ এপ্রিল রাতে পুরান ঢাকার সূত্রাপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সান্ধ্যকালীন কোর্সের ছাত্র নাজিমুদ্দিন সামাদকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে অজ্ঞাত পরিচয় দুর্বৃত্তরা।

নাজিম ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে অনলাইনে লেখালেখিতে সক্রিয় ছিলেন। তার হত্যার দায় স্বাকীর করে জঙ্গি সংগঠন আল কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখা বিবৃতি দিয়েছে দাবি করেছে জঙ্গি হুমকি পর্যবেক্ষণকারী সাইট ইনটিজেন্স গ্রুপ।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্টের উপ-মুখপাত্র মার্ক টোনার এসব ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে হামলার তদন্ত এবং ভিকটিমদের পরিবারের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

এসব ঘটনাকে ‌উদ্বেগের বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

এমআইএস।