রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় মিয়ানমারের প্রতি অন্তবর্তী আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত। রোহিঙ্গাদের সুরক্ষার জন্য সবধরনের ব্যবস্থা নিতে মিয়ানমারকে বলা হয়েছে।

আদেশে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী কিংবা অন্য যেকোন নিরাপত্তা বাহিনী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যেন কোনো গণহত্যায় না জড়ায়, উস্কানি না দেয় কিংবা নির্যাতন না করে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে মিয়ানমারকে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) নেদারল্যান্ডসের হেগে স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা) রায় পড়া শুরু করেন আদালতের প্রেসিডেন্ট আব্দুল কাওয়াই আহমেদ ইউসুফ।

আদালত এটা স্পষ্ট করে ঘোষণা দিয়েছে যে, এ রায় মানতে মিয়ানমার বাধ্য। সর্বসম্মত আদেশে আদালত বলেছেন, অন্তবর্তীকালীন নির্দেশনা বাস্তবায়নের ব্যাপারে চার মাসের মধ্যে রিপোর্ট দাখিল করতে হবে মিয়ানমারকে। চূড়ান্ত রায় না দেয়া পর্যন্ত ছয় মাস অন্তর অন্তর রিপোর্ট দিতে হবে দেশটিকে।

দৃশ্যত গত মাসে আদালতে দেয়া মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সুচির বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে আদেশে। এটা বলা হয়েছে, গাম্বিয়ার অধিকার আছে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করার।

আদালত আরও বলেছেন, মিয়ানমারে থাকা আনুমানিক ৬ লাখ রোহিঙ্গা সামরিক বাহিনীর হাতে ‘চরম মাত্রায় সহিংসতার’ ঝুঁকিতে আছে। প্রাথমিকভাবে গাম্বিয়ার অভিযোগের প্রমাণ পেলেও আদালত বলেছেন, অন্তবর্তীকালীন আদেশ চূড়ান্ত রায়কে প্রভাবিত করবে না।

এর আগে ১৩ জানুয়ারি গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেল আবু বকর এম তাম্বাদুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে এক পোস্টে ২৩ জানুয়ারি আইসিজে রোহিঙ্গা গণহত্যার ঘটনায় জরুরি পদক্ষেপ চেয়ে করা মামলার রায় জানাবেন বলে জানান।

গত নভেম্বরে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানোর অভিযোগ তুলে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে এই মামলা করে পশ্চিম আফ্রিকার মুসলিমপ্রধান দেশ গাম্বিয়া। এরপর গত ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর ৩ দিনব্যাপী নেদারল্যান্ডসের হেগে ওই মামলার শুনানি হয়।

এতে মিয়ানমারের পক্ষে স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি অংশ নেন। সে সময় তিনি রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন।

২০১৭ সালে রাখাইনে সেনা অভিযানকালে কিছু সেনা আইন লঙ্ঘন করেছে, তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন সু চি।

অন্যদিকে গাম্বিয়া মিয়ানমারের প্রতিশ্রুতিতে আস্থা রাখা যায় না বলে জানায়। তারা রোহিঙ্গা গণহত্যা ও সহিংসতা বন্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতকে অন্তর্বর্তী নির্দেশে দেয়ার অনুরোধ করে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৪ আগস্ট রাতে সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের ওপর স্মরণকালের ভয়াবহ বর্বরতা শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও উগ্রপন্থী মগরা (বৌদ্ধ ধর্মালম্বীরা)। চলে গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ বিভৎস সব নির্যাতন। এতে প্রাণ রক্ষায় দলে দলে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা।

মানবিকতার কারণে বাংলাদেশ সরকার কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের সীমান্তপথ খুলে দিয়ে নিপীড়িত প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়। সীমান্তের দুই উপজেলার প্রায় ৮ হাজার একর পাহাড়ি বনভূমিতে আশ্রয়স্থল তৈরি করে ৩৩টি ক্যাম্পে রাখা হয়েছে নতুন পুরনো প্রায় সোয়া ১১ লাখ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে।

এমবি