ইরান নতুন প্রজন্মের একটি সেন্ট্রিফিউজের পরীক্ষা করেছে। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ’র নজরদারিতে এ পরীক্ষা চালান হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান আলী আকবর সালেহি।

তিনি বলেন, ইরান তার সর্বশেষ প্রজন্মের সেন্ট্রিফিউজ অর্থাৎ আইআর-৮’এর কথা ঘোষণা করেছে। আইএইএ’র কাছে এটির এসডব্লিইউ বা সেপারেটিভ ওয়ার্ক ইউনিট ২৪ বলে জানান তিনি।

টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে সালেহি বলেন যে আইআর-৮ সেন্ট্রিফিউজের কারিগরি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হলেও এতে এখনো গ্যাস ঢোকান হয় নি। গ্যাস ঢোকানের জন্য প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির অনুমতি নেয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিনি।

সেন্ট্রিফিউজেরর উন্নয়ন এবং নির্মাণ করাকে ইরানের অধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন আলী আকবর সালেহি । তিনি জানান, গত বছর ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরান জেনেভায় যে চুক্তি সই করেছে তাতে পরমাণু গবেষণা ও উন্নয়ন তৎপরতার বিষয়ে কোনো সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয় নি।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সই করা এক চুক্তির আওতায় ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থাকে ৪০ হাজার আরপিএম বা ঘূর্ণন প্রতি মিনিট’এর ১০টি সেন্ট্রিফিউজ তৈরি করতে হবে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে ৮০ হাজার আরপিএম’এর সেন্ট্রিফিউজ তৈরির পরিকল্পনা ইরান করেছে বলেও জানান তিনি।

এ সাক্ষাৎকারে তিনি আরো জানান, আরাকের ভারি পানির চুল্লির নতুন নকশা করার কাজ তেহরান শুরু করেছে। এই পরমাণু চুল্লি যে বেসামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে সে বিষয়টি পশ্চিমা দেশগুলোকে নিশ্চিত করার জন্য এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানান আলী আকবর সালেহি। নতুন এ নকশার কারিগরি বিষয় সম্পর্কে ইরানের পররাষ্ট্র দফতরকে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য তেহরানে যে পরমাণু চুল্লি রয়েছে ধীরে ধীরে তার স্থান দখল করবে আরাকের পরমাণু চুল্লি।

এ ছাড়া, দক্ষিণাঞ্চলীয় ইরানের বুশেহের পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছে রাশিয়া দ্বিতীয় পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এ সংক্রান্ত চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করার জন্য তার সহযোগীরা আগামী দিনগুলোতে রাশিয়া সফর করবেন বলেও জানান তিনি। সূত্র: রেডিও তেহরান

ঢাকা, ২৮ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, টিআই