ভারতের উত্তর প্রদেশে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সোমবার ২০ জনসহ বন্যায় এ পর্যন্ত মারা গেছে ৪৮ জন। এর মধ্যে বাহরাইচে ২২ জন, শ্রাবস্তিতে ১০ জন, বলরামপুরে ২ জন ও লাখিমপুরে খেরিতে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে প্রবল বর্ষণের কারণে রাপ্তি, সরযূ, ঘর্ঘরা এবং গঙ্গা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করেছে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়।

বন্যায় বাহরাইচ, বলরামপুর, গোন্দা, লক্ষ্মীপুর, বারাবানকি, সিতাপুর, ফাইজাবাদ, আজমঘরসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রাজ্যে এখন পর্যন্ত ১৫ শতাধিক ঘরবাড়ি প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া সহস্রাধিক ঘরবাড়ি হুমকির মুখে রয়েছে। এবারের বন্যায় অর্ধশত মানুষ নিখোঁজের পাশাপাশি ৬০ হাজার মানুষ গৃহহারা হয়েছেন।

দুর্যোগ মোকাবেলায় জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বাহিনীকে সর্বোচ্চ তৎপর থাকতে বলা হয়েছে। সব চিকিৎসকের ছুটি বাতিলের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও কেন্দ্রীয় আর্মড পুলিশ বাহিনীকে পরিস্থিতি মোকাবেলায় তলব করেছে রাজ্য সরকার

উত্তর প্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দু'দিন আগে নেপাল সরকার বনবাসা জলাধার থেকে দেড় লাখ কিউসেক পানি ছাড়ে। এ কারণে পানিতে ভেসে যায় বিস্তীর্ণ এলাকা।

এদিকে, উত্তরাখণ্ডেও বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিয়েছে। বন্যা ও ভূমিধসে এখনও পর্যন্ত ২৪টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় ধস নেমে রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আটকে পড়েছেন পর্যটকরা। দুর্গত পর্যটকদের উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করেছে সেনাবাহিনী।

এ ছাড়া, ঝাড়খণ্ড, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্যগুলোর সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সূত্র: আইআরআইবি

ঢাকা, ১৯ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমএ