ভারতের দক্ষিণ পশ্চিমের রাজ্য কেরালার পুত্তিঙ্গল মন্দিরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহে  পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।

সোমবার (১১ এপ্রিল) দেশটির পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।

কেরালার পুলিশের মহাপরিচালক স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক বক্তব্যে জানান, পুত্তিঙ্গল মন্দিরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্যসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

এছাড়া অগ্নিকাণ্ডে বিচার বিভাগীয় তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের মন্ত্রিসভা জরুরি বৈঠকে বসে আলোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেয়।

বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির তদন্তকারীদের আগামী ছয় মাসের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে রোববার (১০ এপ্রিল) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধীসহ কেন্দ্রীয় সরকার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

অগ্নিকাণ্ডে হতাহতদের পরিবারকে অনুদানের ঘোষণা দেন মোদি। তার ঘোষণা অনুযায়ী, এ অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের প্রত্যেকের পরিবার পাবে ২ লাখ রুপি করে। আর আহতরা পাবেন ৫০ হাজার রুপি করে।

রোববার (১০ এপ্রিল) ভোরে রাজ্যের রাজধানী তিরুবন্তপুরম থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে উপকূলীয় শহর কোলামের পুত্তিঙ্গল মন্দিরে অগ্নিকাণ্ডটি হয়। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন সাড়ে তিনশ’র বেশি মানুষ।

বিভিন্ন পক্ষের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, দক্ষিণ ভারতের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় উৎসব ‘নবরাত্রি’ উদযাপনকালে আতশবাজি ফাটানো হচ্ছিল। এক পর্যায়ে এর স্ফূলিঙ্গ মন্দিরে রাখা আতশবাজির স্তূপের ওপর পড়ে। এতে মুহূর্তেই বিকট বিস্ফোরণ হয়। এরপর আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো মন্দিরে। এসময় দগ্ধ হয়ে মারা যান অনেকে। অনেকে নিহত হন পদদলিত হয়ে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ভোরের দিকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাতের পর সকাল পৌনে ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় রাজ্যের ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা।

স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানায়, উৎসব চলাকালে মন্দিরটিতে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

এআই