প্রবাসী এক বাংলাদেশিকে আরেক বাংলাদেশির হত্যার দায়ে শাস্তি দিয়েছে ব্রিটিশ আদালত। দুই দশক আগে খুন করে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যাওয়া ঔ ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে যুক্তরাজ্যের একটি আদালত।

১৯৯৭ সালে লন্ডনের ইলিংটনে ডেলিভারিম্যান আবদুল সামাদকে হত্যার দায়ে শুক্রবার ওল্ড বেইলির আদালত অভিযুক্ত ফয়জুর রহমানকে (৪৪) অন্তত ১৮ বছর জেলে রাখার রায় দেন বিচারক ।

খুন হওয়ার সময় আবদুল সামাদের বয়স ছিল ২৫। তিনি কাজ করতেন ইলিংটনের সেন্ট পল সড়কের ‘কারি ইন এ হারি’ রেস্তোরাঁর বিতরণ ব্যবস্থাপনায়। বেথনেল গ্রিনের এ বাসিন্দাকে আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবরা ‘কামাল’ নামে ডাকত।

স্টোক নিউইংটন ও ব্রিক লেনের প্রবাসী বাঙালিদের দু‘টি দলের বিবাদের জের ধরে সামাদকে হত্যা করা হয় বলে তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আবদুল সামাদ ব্রিক লেন অংশের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

১৯৯৭ সালের মে’র ২১ তারিখ টেলিফোনের মাধ্যমে খাবারের ভুয়া অর্ডার দিয়ে ইলিংটনের এলওয়েইন সড়কে আবদুস সামাদকে ডেকে নেন ফয়জুর ও তার দোসররা। সেখানে তাকে ২-৩ জন মুখোশধারী ব্যক্তি চাপাতি ও ছোরাসহ ধারাল অস্ত্র এবং বেসবল ব্যাট দিয়ে জখম করে।

গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরা হুইটিংটন হাসপাতালে নিয়ে গেলে পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবদুল সামাদের মৃত্যু হয়।

সেন্ট পাঙ্কার্স মর্গ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে আবদুল সামাদের মৃত্যুর জন্য ধারালো অস্ত্রের আঘাতকে দায়ী করেছে।

ঔ ঘটনার পরদিনই সন্দেহভাজন ফয়জুর যুক্তরাজ্য থেকে পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যায় বলে তদন্ত কর্মকর্তারা আদালতকে জানান।

তদন্ত কর্মকর্তা নিক মিলার জানান, ২০১২ সালের মার্চে সামাদ হত্যার দায়ে আরেক আসামী মহিউদ্দিন বাবলুকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের রায় দেয় আদালত।

হত্যাকান্ডের পর বাবলুও প্রথমে বার্মিংহামে ও পরে বাংলাদেশে পালিয়ে যায়। খুনের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা আছে তা জানার পর তাকে যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হয়।

বাবলুর সাক্ষ্য, ঘটনাস্থলে পাওয়া মুখোশ থেকে সংগৃহীত ডিএনএ এবং অস্ত্রের ব্যাগে থাকা আঙুলের ছাপ ফয়জুরের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করে।

২০১৬ সালের ২৭ জানুয়ারি ফয়জুরকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরিয়ে আনা হয়। পরদিন তাকে অক্সব্রিজের ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। শুক্রবার ওল্ড বেইলির আদালত তাকে হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার দায়ে যাবজ্জীবন সাজা দেয়।

রায়ে সামাদের স্ত্রী ও দুই মেয়ে সন্তুষ্ট বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এফএফ