বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন আহমদকে আদালতে পাঠানো যাবে কি না তা নির্ধারণের জন্য তার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে দেখবে মেডিকেল বোর্ড।
শিলংয়ের নেগ্রিমস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সোমবার তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য এ বোর্ড গঠন করেছে। বোর্ডের সদস্যরা আজ মঙ্গলবার বৈঠকে বসবেন।
যদি চিকিৎসকরা মত দেন তাহলে দুই একদিনের মধ্যেই তাকে আদালতে তোলা হবে।
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব শম্ভু সিং সাংবাদিকদের এমনটিই জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘সালাহ উদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশের একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিক। তার বিরুদ্ধে ফরেনার্স অ্যাক্ট ৪৬ লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ বিষয়ে তারও বক্তব্য থাকতে পারে। আদালতই হচ্ছে সেই বক্তব্য শোনার উপযুক্ত জায়গা। কিন্তু তিনি অসুস্থতার কথা বলে আদালতে যেতে চান না। তাই তার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।’
এদিকে সালাহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আদালতের দিকে তাকিয়ে আছে পুলিশ। আদালত তার ব্যাপারে যে নির্দেশনা দেবে সেই অনুযায়ীই ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।
আদালত পাসপোর্ট আইন অনুযায়ী সালাহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিতে পারেন। আবার তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশনাও দিতে পারেন।
জানা গেছে, একজন চিকিৎসকের উপস্থিতিতে সালাহ উদ্দিন আহমদকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতির জন্য মেঘালয় পুলিশের পক্ষে থেকে শিলং নেগ্রিমস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনো সালাহ উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়নি।
নেগ্রিমস হাসপাতালের পরিচালক এ জে এহেনগা সাংবাদিকদের জানান, চিকিৎসকের উপস্থিতিতে সালাহ উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ করে দেয়ার জন্য আমাদেরকে একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি পুরোপুরি সুস্থ্ না হওয়ায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়া হয়নি।
সালাহ উদ্দিনের জন্য শিলংয়ের প্রথম শ্রেণীর বিচারিক আদালতে জামিনের আবেদন করেছেন তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ। আবেদনে তাকে চিকিৎসার জন্য তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর অনুমতি চাওয়া হয়েছে। আদালত আবেদন আমলে নিয়ে ২৯ মে শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
সালাহ উদ্দিনের পরিবার তাকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা করাতে চান।
গত বুধবার থেকে সালাহ উদ্দিন শিলংয়ের বিশেষায়িত নেগ্রিমস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ওই হাসপাতালের সহকারী মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট ডা. ভাস্কর বোরগাইন সাংবাদিকদের বলেন, ‘মূত্র প্রদাহ, হৃদরোগ, কিডনি, প্রোস্টেট ও ত্বকের সমস্যায় ভুগছেন সালাহ উদ্দিন। চিকিৎসকরা তাকে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।’
দুই মাস ‘নিখোঁজ’ থাকার পর ১১ মে শিলংয়ে সালাহ উদ্দিন আহমেদের খোঁজ পাওয়া যায়। সেখান থেকে তিনি স্ত্রী হাসিনা আহমেদকে ফোন করেন। এর মধ্যদিয়ে সালাহ উদ্দিনের নিখোঁজ হওয়ার অবসান ঘটে।
কিন্তু হাসপাতালে সালাহ উদ্দিন স্ত্রীকে জানান, তিনি স্বেচ্ছায় ভারতে ঢোকেননি। চোখ-হাত বেঁধে তাকে শিলংয়ে ফেলে দিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
এমকে





