উত্তর কোরিয়ার সোহায়িতে অবস্থিত দেশটির প্রধান উপগ্রহ উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের উন্নয়ন কাজ শেষ হয়েছে। এ কেন্দ্র থেকে এখন তুলনামূলক বড় রকেট ছোঁড়া যাবে বলে জানিয়েছে আমেরিকার জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউএস-কোরিয়া ইনস্টিটিউট।
উপগ্রহ থেকে নেয়া নতুন ছবি থেকে এ সব তথ্য পাওয়া গেছে বলে তারা জানিয়েছেন। গত বছর থেকেই উপগ্রহ থেকে নেয়া ছবি নিয়ে গবেষণা করছে এ ইন্সটিটিউট্।
গত বছরের মাঝামাঝি থেকেই দেখা যাচ্ছিল, সোহায়ি উপগ্রহ উৎক্ষেপণ কেন্দ্রটিতে বড় ধরণের নির্মাণ কাজ চলছে। এ নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ায় চলতি বছরের শেষ নাগাদ উত্তর কোরিয়া তুলনামূলক বড় রকেট ছুঁড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কেন্দ্রটি এখন ৫০ মিটার দীর্ঘ রকেট ছুড়তে পারবে বলে উল্লেখ করে এ ইনস্টিটিউট বলছে, এর আগে এ কেন্দ্র থেকে যে রকেট ছোঁড়া হয়েছে এবারে তার চেয়ে ৭০ শতাংশ বড় রকেট ছোঁড়া যাবে।
অবশ্য এখনো রকেট ছোঁড়ার কোনো প্রস্তুতি নেয়ার আলামত পাওয়া যায়নি বলেও স্বীকার করেছে ইউএস-কোরিয়া ইনস্টিটিউট।
এ ছাড়া, আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র বা আইসিবিএম গবেষণা নিয়েও এগিয়ে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া। আইসিবিএমের পরীক্ষা সফল হলে উত্তর কোরিয়ার হামলার আওতায় চলে আসবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
ফলে উত্তর কোরিয়া নিয়মিত যেসব পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে আসছে তার হুমকি বহুগুণ বেড়ে যাবে এবং আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্য পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও জানিয়েছে এ ইন্সটিটিউট।
উল্লেখ্য, আন্তদেশীয় ক্ষেপনাস্ত্র বা আইসিবিএম সর্বপ্রথম ১৯৫৮ সোভিয়েত ইউনিয়ন আবিষ্কার করে। এরপরের বছর যুক্তরাষ্ট্র আইসিবিএম আবিষ্কার করে। আর চীন আইসিবিএম তৈরী করে তার ২০ বছর পর।
এই মিসাইল পরমাণুঅস্ত্র বহনে সক্ষম এবং ভূমি থেকে উৎক্ষেপণ যোগ্য। এই ধরনের মিসাইল ৫৬০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম।
যদি উওর কোরিয়া এ ধরনের মিসাইল তৈরী করতে সক্ষম হয় এবং উপকেন্দ্র থেকে উৎক্ষেপণ করতে পারে তাহলে যুক্তরাষ্ট্র উওর কোরিয়ার হামলার আওতায় চলে আসবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিরাট বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
এর ফলে আন্তর্জাতিক ক্ষমতা পরিবর্তনে উওর কোরিয়া গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে দাঁড়াবে।
ইআর





