সিডনির জিম্মির ঘটনায় জড়িত বন্দুকধারী হারুন মনিস সম্পর্কে ইরানের বারংবার হুঁশিয়ারিকে উপেক্ষা করেছিল অস্ট্রেলিয়া সরকার। ইরান ১৪ বছর আগে তাকে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানালেও অস্ট্রেলিয়া সরকার তা প্রত্যাখ্যাত করেছিল।
ইরানের পক্ষ থেকে এ ব্যক্তি সম্পর্কে বারবার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন এশিয়া এবং ওসেনিয়া বিষয়ক ইরানের সাবেক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইব্রাহিম রহিমপুর।
এদিকে, ইরানের পুলিশ প্রধান জানিয়েছেন, তার দেশ ১৪ বছর আগে জালিয়াতির একটি মামলায় হারুন মনিসকে ফিরিয়ে দিতে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ফিরিয়ে দিতে বলেছিল, কিন্তু অস্ট্রেলিয়া কর্তৃপক্ষ তা প্রত্যাখ্যান করেছিল।
সাবেক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ব্যক্তি সম্পর্কে অপরাধের যে তালিকা রয়েছে সে বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার সরকারকে বারবার অবহিত করেছে ইরান। এ ছাড়া হারুন মনিস তার প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তার দুই সন্তানকে ফেলে অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন করেছে। তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে হত্যা প্রচেষ্টা চালানোসহ অন্যান্য শারীরিক নির্যাতনের চালানোর দায়ে এ ব্যক্তি অস্ট্রেলিয়ায় অভিযুক্ত হয়েছে বলেও জানান রহিমপুর।
সিডনির পণবন্দি নাটককে কেন্দ্র করে পশ্চিমা প্রচার মাধ্যমগুলোর চলমান প্রচারণাকে পুরানো কৌশল বলে অভিহিত করেন রহিমপুর। রহিমপুর বলেন, ইরানি আলেমদের পোশাক পরিধান করায় এবং সে সময় শিয়া থাকায় এ ব্যক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে। এ ব্যক্তি যে শরণার্থী ছিল সে কথা সবাই ভালোভাবেই জানেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণায় পশ্চিমাদের নিজস্ব কর্মসূচির আওতায় ইরানি ও মুসলমানদের এ ভাবে ব্যবহার করা হয় বলেও জানান তিনি।
এদিকে, এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র মাজিয়া আফখাম এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘খোদায়ি ধর্ম ইসলামের নামে কোনো রকম সন্ত্রাসী তৎপরতা বা অমানবিক পন্থা কোনো অবস্থায় গ্রহণযোগ্য নয়।’
অস্ট্রেলিয়ার পুলিশের অভিযানের মধ্য দিয়ে সোমবারের সিডনির লিন্ডট ক্যাফের ১৬ ঘণ্টাব্যাপী পণবন্দি নাটকের অবসান ঘটে। অভিযানে বন্দুকধারী এবং দুই পণবন্দি নিহত হয়েছে বলে পুলিশ সূত্র থেকে জানানো হয়েছে।
এমএ





