প্রায় চারশ বছর আগের কথা। জাপানের মিয়াজিমা দ্বীপের বনের গহীনে ছোট্ট একটি গাছ কাদা-ময়লা ঠেলে মাথা তুলে উঠেছে। এই ছোট্ট জাপানি হোয়াইট পাইন গাছটির দিকে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে রইলেন ইতারো। খুব সযতনে চারাগাছটি হাতে তুলে নিলেন ইতারো।
তার হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া গাছটিকে এই বনের তরফ থেকে একটি শুভেচ্ছা মনে করলেন তিনি। গাছটিকে বাড়ি নিয়ে এলেন। পটে বসালেন। তারপর বাকি পঞ্চাশ বছর ধরে নিজ হাতে গাছটিকে তিনি নান্দনিক এক বনসাই-এ রূপ দিলেন।
জাপানিদের ঐতিহ্যবাহী বৃক্ষ লালনের রীতিতে পাইন গাছটি তিনি নিজ হাতে গড়ে তুললেন। রহস্যময় দ্বীপ মিয়াজিমার কথা মাথায় রেখে বনসাইটির নাম দিলেন ‘মিয়াজিমা।
ইতারো মারা গেলেন, তার বনসাই চলে এলো তার পুত্রের হাতে। সেই পুত্রও তার জীবিতকাল নাগাদ পরিচর্যা করলেন মিয়াজিমার। তার মৃত্যুর পর তার পুত্র দায়িত্ব নিলেন। এ ভাবে বংশ পরম্পরায় তিনশ ৯০ বছরের এক কিংবদন্তিতে পরিণত হলো মিয়াজিমা বনসাই। এমনকি হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা হামলার পরও বিস্ময়করভাবে প্রাণে বেঁচে গেলো মিয়াজিমা।
বনসাই চর্চার ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাচীন বৃক্ষ ৩৯০ বছরের জাপানি সাদা পাইন ‘মিয়াজিমা’আজ বিশ্বে ‘শান্তি বৃক্ষ’ নামেই পরিচিত। ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ প্রান্তে এসে আমেরিকা হিরোশিমা ও নাগাসাকি শহরে আণবিক বোমা হামলা চালায়।
বিশ্ববাসী ইতিহাসের নৃশংসতম হামলাটি দেখে শিউরে ওঠে। ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় এ হামলায়। সে সময় ইতারো পরিবার হিরোশিমার নিকটবর্তী শহরেই ছিল। তাদের সঙ্গে ছিল এই গাছটিও। কিন্তু গাছটির কোনো ক্ষতি হয়নি।
এই ভয়াবহ বোমা হামলার ৩ দশক পর মিয়াজিম নতুন ঠিকানা পায়। ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল বনসাই এ-পেনজিং মিউজিয়ামে রয়েছে মিয়াজিমা। ইতারো পরিবারের সদস্য, মিয়াজিমার সর্বশেষ পরিচর্যাকারী ইয়ামাকি মাসারুর ভাষ্য থেকে জানা যায়, ‘আমেরিকা ১৯৭৫ সালে যখন তাদের দুইশ বছর উদযাপন করছিলো তখন জাপানিরা তাদের এ উপলক্ষ্যে কিছু বনসাই উপহার দিতে চায়।
জাপান ও আমেরিকার যুদ্ধের ফলে সৃষ্টি হওয়া বিষাদ কাটিয়ে নতুন করে সব গড়ার আশা ও প্রেরণার প্রকাশ ঘটে এই উপহারে মাধ্যমে। তখন মিয়াজিমাকে পাঠানো হয় উপহার হিসেবে।’
ইআর





