অবিবাহিত নারী-পুরুষের মধ্যে যদি উভয়ের সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপিত হয় তা বৈধ। এমনকি সাম্প্রতিক আইন এমন সম্পর্ককে মেনে নিয়েছে।

২০১০ সালে এমন রায় দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। এর ফলে উভয়ের সম্মতিতে প্রেমিক-প্রেমিকা দীর্ঘ সময় একসঙ্গে অবস্থান করতে পারেন।

ডমেস্টিক ভায়োলেন্স অ্যাক্টের অধীনে এমন সম্পর্ককে আখ্যায়িত করা হয়েছে ‘লিভ ইন রিলেশনশিপ’ হিসেবে। কিন্তু অনেকটা সময় পর এমন সম্পর্ক যখন ভেঙে যায় তারপর প্রেমিকা তার প্রেমিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনছেন। এ ঘটনা এখন বেড়েই চলেছে।

এমনই একটি মামলার শুনানিতে এসব কথা বলেছে মুম্বই হাইকোর্ট। উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কোর্ট। এমন ঘটনায় অনেক প্রেমিক এখন জেল খাটছে। ধর্ষিতা অভিযোগ করছেন, প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর তার প্রেমিক তাকে ধর্ষণ করেছে। এ খবর দিয়েছে ভারতের অনলাইন দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া।

এতে বলা হয়েছে, এমনই একটি অভিযোগে এক প্রেমিক এখন জেলে। তার ২০ বছর বয়সী প্রেমিকার অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে জেল দেয়া হয়েছে। ওই প্রেমিকা তার সাবেক ওই প্রেমিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন। সেই আবেদনের শুনানি হয় বিচারপতি বিদ্যাসাগর কানাড়ে নুতন সারদেশাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চে।

শুনানিতে এই বিচারক বলেছেন, এ রকম অনেক মামলা আছে। এ কারণে অভিযুক্ত ব্যক্তি মাসের পর মাস বা বছরের পর বছর জেল খাটছে। বেঞ্চের বিচারকরা বলেছেন, সম্প্রতি আমরা লক্ষ্য করেছি প্রেমিক-প্রেমিকা উভয়ের সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে ব্যর্থ হয়েছেন।

তারপর প্রেমিকাকে তার প্রেমিক ধর্ষণ করেছে- এ রকম ঘটনা বাড়ছেই। অনেক ক্ষেত্রে দু’জনের সম্মতিতে আবার অনেক ক্ষেত্রে প্রেমিকার অসম্মতিতে দীর্ঘ সময় ধরে উভয়ের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে। এরকম মামলা আসছে।
এভাবে ৬ মাসের মতো শারীরিক সম্পর্ক চলার পরে যখন উভয়ের মধ্যে তিক্ত সম্পর্কের জন্ম নেয় তখনই তারা ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। হাইকোর্ট আরো বলেছে, যখন একটি মেয়ে ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে পুলিশের কাছে মামলা করতে যান তখন আইন অনুযায়ী পুলিশকে সেই মামলা নিতেই হয়।

এ সময় আদালত আরো বলে যে, অবিবাহিত নারী-পুরুষের মধ্যে যদি উভয়ের সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপিত হয় তা অবৈধ নয়। এমনকি সাম্প্রতিক আইন এমন সম্পর্ককে মেনে নিয়েছে। এখানে উল্লেখ করা জরুরি যে, এমন সম্পর্কের বিষয়টি বিধানে রয়েছে। নারীকে এর মাধ্যমে সুরক্ষা দেয়া হয়েছে এবং ডমেস্টিক ভায়োলেন্স অ্যাক্টের অধীনে এমন সম্পর্ককে আখ্যায়িত করা হয়েছে ‘লিভ ইন রিলেশনশিপ’ হিসেবে।

আদালত বলেছে, কিন্তু ধর্ষণের মতো এমন সব অভিযোগ কিভাবে তদন্তকারী সংস্থা তদন্ত করবে সে বিষয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা করার প্রয়োজন। বিচারকরা বলেন, একটি যথার্থ মামলায় আমরা প্রস্তাব করবো, ওই মামলায় পুলিশের কি করণীয় সে বিষয়ে বিবেচনা করতে। ওদিকে হাইকোর্টে আরো একটি পিটিশন করা হয়েছে।

তাতে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পরে ধর্ষণের অভিযোগ কিভাবে পুলিশ দেখভাল করবে সে বিষয়ে গাইডলাইন চাওয়া হয়েছে। হাইকোর্টে এখন ছুটি চলছে। এ ছুটির পরে জানুয়ারিতে যখন আদালত খুলবে তখন এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

মাহমুদ