বিপ্লবী রাফায়েলের দেশ এল সালভাদর। মার্কিন মদদপুষ্ট সরকারের নির্যাতন আর অত্যাচারে দেশটির জনগণের যখন নাভিশ্বাস উঠবার অবস্থা, তখনই ক্রমশ সংগঠিত হতে থাকে কমিউনিস্ট ভাবাদর্শে বিশ্বাসী রাফায়েল বাহিনী।
এরপর দীর্ঘ লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে মার্কিন মদদপুষ্ট সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে হয় বিপ্লবী দলটির কাছে। সেই থেকেই মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রকাশ্য বিরোধের সূচনা এল সালভাদরের।
যতদিন গেছে ততই বিভিন্ন কায়দায় দেশটির ক্ষতি করার চেষ্টা করা হয়েছে। আর এই ক্ষতির অংশ হিসেবেই ধীরে ধীরে বিভিন্ন খাত হয়ে দেশটিকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করা হয়।
মার্কিন কূটকৌশলের ধারাবাহিকতায় এল সালভাদর এখন মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। বিশ্বে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এল সালভাদরে। এই হত্যাকাণ্ডগুলোর অধিকাংশই মূলত বিবদমান গ্যাংগুলোর মধ্যে হয়ে থাকে।
বর্তমানে গোটা দেশটি মূলত দুইটি বড় গ্যাং নিয়ন্ত্রন করছে। এরমধ্যে একটি হলো মারা সালভারুচা। দীর্ঘদিন ধরেই তারা একে অপরের সঙ্গে মাদক সংক্রান্ত আধিপত্য নিয়ে লড়াই চলছিল। যদিও এখন এই দুই গ্যাংকেই আইন শৃঙ্ক্ষলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে। চলতি সপ্তাহের প্রথম তিন দিনেই দেড়শ’র অধিক মানুষকে হত্যা করা হয়েছে দেশটিতে।
গত রোববার ছিল দেশটির সবচেয়ে ভয়াবহ রক্তাক্ত দিনগুলোর মধ্যে অন্যতম। রোববারের সংঘর্ষে বিবদমান গ্যাংগুলোর মোট ৪০জন সদস্যা মারা যায়। অবশ্য পরবর্তী দিনগুলোতে জানা যায়, মৃতের সংখ্যা প্রায় পঁঞ্চাশ।
আমরা যদি একটু যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাকের প্রতিদিনকার মৃতের হিসেব নেই, তাহলেও দেখতে পাবো যে এল সালভাদরে সবচেয়ে বেশিই মানুষ খুন হয়।
মারা সালভারুচা গ্যাংয়ের উচ্চপদস্থ ব্যক্তি হলেন মারভিন। মাত্র ১৪ বছর বয়সে তিনি এই গ্যাংয়ে যোগ দিয়েছিলেন।
মাত্র চার বছর বাদেই বিরোধী গ্যাংয়ের এক সদস্যকে হত্যা করে তিনি আলোচনায় আসেন এবং গ্রেপ্তার হন। কিন্তু মারভিনের জন্য এই খুনটি ছিল গ্যাংয়ে তার উপস্থিতি প্রমাণ করবার লড়াই।
কারণ গ্যাংয়ের সদস্য হতে গেলে নিদেনপক্ষে দু একটা খুন করতে হবে, এটাই এল সালভাদরের গ্যাংগুলোর অলিখিত নিয়ম। কারাগার থেকে তিনি যখন দশ বছর পর বের হন তখন তিনি সম্পূর্ণ নতুন এক মানুষ।
কারণ কারাগারে থাকার কারণে তার অনেক বন্ধু এবং শত্রুর সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। আর সেই পরিচয়কেই কাজে লাগিয়ে তিনি পরবর্তী সময়ে গোটা দেশজুরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার চেষ্টা করেন।
২০১২ সালে এল সালভাদরের পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে বিবদমান গ্যাংগুলোর একটি ১৫ মাসের শান্তিচুক্তি হয়েছিল। ওই শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল মারভিনের।
কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে করা এক ভুলের কারণে সেই চুক্তি বেশিদিন টেকেনি এবং পুনরায় রক্তের নহর বইতে থাকে এল সালভাদরের মাটিতে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত প্রায় চার হাজার মানুষ হত্যার শিকার হয়েছে।
এক পরিসংখ্যান মতে, দেশটিতে প্রতি ঘণ্টায় একজন করে মানুষ হত্যা হচ্ছে। প্রতিবছরই পূর্বোক্ত বছরের হত্যাকাণ্ডের রেকর্ড অতিক্রম করছে গ্যাংগুলো।
দেশটির উপর বিভিন্ন বাণিজ্যিক নিশেধাজ্ঞা থাকার কারণে চোরাচালানের মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশ থেকে নিত্যব্যবহার্য অনেক পণ্যই আনতে হয় এল সালভাদরবাসীকে।
আর এই সুযোগেই যুক্তরাষ্ট্র এবং মেক্সিকো থেকে অবৈধ পথে বিপুল পরিমান মাদক এবং অস্ত্র প্রবেশ করে দেশটিতে।
জাতীয় অর্থনৈতিক অবস্থা দুর্বল হওয়ার কারণে প্রশাসনও এই দুর্নীতির সঙ্গে খুব সহজেই জড়িয়ে যায় এবং গ্যাংগুলোর অবৈধ অর্থও রাতারাতি বাড়তে থাকে। এমতাবস্থায় সরকারের পক্ষ থেকে বেশে কয়েকবার চুক্তির চেষ্টা হলেও কোনো লাভ হয়নি।
এসএইচ





