পশ্চিম রাশিয়ায় সামরিক মহড়া অবিলম্বে বন্ধ করে রুশ সেনাকে ঘাঁটিতে ফেরার নির্দেশ দিলেন ভ্লাদিমির পুতিন৷ ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভকে উদ্ধৃত করে এ খবর জানিয়েছে রুশ সংবাদসংস্থাগুলি৷ ফলে গত এক সপ্তাহ ধরে ইউক্রেনের অন্তর্গত ক্রিমিয়া অঞ্চলে রুশ আক্রমনের সম্ভাবনা আপাতত কমে গেল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা৷
এই ঘোষণার কিছু পরেই, পুতিন তার সরকারি আবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, 'রাশিয়া এখনই ক্রিমিয়াতে সামরিক পদক্ষেপ নিতে চায় না৷ যদি কখনও সেটি নিতেই হয়, তবে তা হবে চরম পদক্ষেপ৷' পশ্চিমী দুনিয়াকে সাবধান করে দিয়ে পুতিন বলেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা চাপালে তার ফল ভাল হবে না৷
সাংবাদিকদের কিছুটা অবাক করে দিয়েই পুতিন জানান ক্রিমিয়ায় যে সব বন্দুকবাজদের দেখা গিয়েছে তারা কেউ রুশ নয়৷ তারা রাশিয়ার সমর্থনকারী আত্মরক্ষা গোষ্ঠী মাত্র৷
পুতিন আরও বলেন, 'একটি বেআইনি অভ্যুত্থানে আমাদের বন্ধু, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভিক্তর ইয়ানুকোভিচ পদচ্যুত হলেও, আমরা তাকেই সে দেশের বৈধ প্রেসিডেন্ট বলে স্বীকার করি৷' পুতিন অবশ্য মনে করেন ইয়ানুকোভিচের আর কোনও রাজনৈতিক ভবিষ্যত্‍ নেই৷ তার প্রাণ বাঁচাতেই রাশিয়া তাকে আশ্রয় দিয়েছে৷
ইউক্রেন রুশ সভ্যতার উত্‍পত্তিস্থল হওয়া সত্ত্বেও রাশিয়ার প্রভাব এড়িয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গলাভের প্রত্যাশা করাটাই পুতিনের উষ্মার কারণ৷ সোমবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভিতালি শুরকিন জানান ইয়ানুকোভিচই পুতিনকে লেখা একটি চিঠিতে ইউক্রেনে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে রাশিয়ার কাছে সামরিক সাহায্য চান৷ এই ঘোষণার পর মস্কোর শেয়ার বাজারে তেজি ভাব দেখা যায়, জাপানে ইউরো আর ডলারও চাঙ্গা হয়ে ওঠে৷
অন্য দিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের জন্য আর্থিক ও শক্তি খাতে ১ বিলিয়ন ডলার সাহায্য মঞ্জুর করেছে৷ এরই পাশাপাশি মার্কিন বিদেশ সচিব জন কেরি মঙ্গলবার কিয়েভে এসে প্রথমেই ইন্ডিপেনডেন্স স্কোয়্যারে শহীদদের স্মৃতিতে মাল্যদান করেন৷ এর পরই তিনি দেশের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন৷
ন্যাটোর সদস্য দেশগুলির মধ্যেও একই দিনে একটি আপত্‍কালীন বৈঠক বসবে৷ মাদ্রিদে আরও একটি আলোচনায় বসবেন রুশ বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লেভরভ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিদেশনীতি উপদেষ্টা ক্যাথেরিন অ্যাশটন৷ আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার-এর (আইএমএফ) একটি দল এই মুহূর্তে ইউক্রেনের জন্য ১৫ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক প্যাকেজের ব্যবস্থা করতে কিয়েভেই রয়েছে৷
সৈন্য প্রত্যাহার করলেও রাশিয়া ইউক্রেনের উপর চাপ যে শিথিল করছে না তার প্রমাণ পাওয়া গেল মঙ্গলবারের আর একটি ঘটনায়৷ রাশিয়ার শীর্ষস্থানীয় গ্যাস উত্‍পাদক সংস্থা গ্যাজপ্রোম জানিয়েছে এপ্রিল থেকে ইউক্রেনে সরবরাহ করা গ্যাসের উপর ছাড় তারা প্রত্যাহার করে নেবে৷ এই সংস্থার প্রধান আলেক্সেই মিলার অবশ্য বলেছেন তারা ইউক্রেনকে আর্থিক সংকট মেটাতে ৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিতে রাজি৷
[b]ঢাকা, ৫ মার্চ (টাইমনিউজবিডিডটকম) // ইএইচ[/b]