অবরুদ্ধ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার জনগণ আসন্ন শীতকে সামনে রেখে চরম বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে। সাম্প্রতিক ৫০ দিনের যুদ্ধে হাজার হাজার ফিলিস্তিনির বাড়ি সম্পূর্ণ বা আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে।
এসব মানুষ এতদিন খোলা আকাশের নীচে বসবাস করলেও আসন্ন শীত সহ্য করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। এরইমধ্যে আবহাওয়া ঠাণ্ডা হতে শুরু করেছে।
এদিকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে ইহুদিবাদী ইসরাইল গাজায় নির্মাণ সামগ্রী প্রবেশ করতে না দেয়ায় গৃহহীন ফিলিস্তিনিদের জন্য ঘর-বাড়ি তৈরি বা মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না।
একজন বাস্তুহারা ফিলিস্তিনি ইরানের নিউজ চ্যানেল প্রেস টিভিকে জানিয়েছেন, “আমাদের পক্ষে এ পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে। আমরা ঘর-বাড়ি হারিয়ে বর্তমানে একটি দোকানে বসবাস করছি। আবহাওয়া ঠাণ্ডা হতে থাকায় শীত সহ্য করা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
প্রেস টিভির সংবাদদাতা জানিয়েছেন, যুদ্ধের পাশাপাশি ২০০৭ সাল থেকে গাজার ওপর অবরোধ চাপিয়ে দেয়ার কারণে উপত্যকার অবকাঠামো ধ্বংসের পথে রয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। আর ফিলিস্তিনে শীতকালে বৃষ্টি হওয়ার কারণে খোলা আকাশের নীচে তাঁবুতে অবস্থান নেয়া মানুষ পড়েছে দুর্বিসহ অবস্থায়।
গাজার একজন শরণার্থী নারী বলেছেন, “জাতিসংঘ আমাদের কোনো সাহায্য করছে না। আমরা একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে উঠেছি। কম্বল দিয়ে খোলা জানালাগুলো ঢেকে রেখে কোনোমতে শীত ঠেকানোর ব্যবস্থা করেছি। দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন।”
এদিকে ফিলিস্তিনের বেসরকারি সংস্থাগুলো জরুরি ভিত্তিতে গাজার বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে।
"ফিলিস্তিনি এনজিও নেটওয়ার্ক"-এর পরিচালক আমজাদ শাওয়া জানিয়েছেন, "গাজা উপত্যকার ওপর অবরোধ থাকার কারণে এখানকার মানবিক পরিস্থিতি বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে। এখনো প্রায় এক লাখ মানুষ জাতিসংঘের আশ্রয় কেন্দ্রগুলোর পাশাপাশি নিজেদের ভাঙাবাড়িতে অবস্থান করছে। প্রতি মিনিটে পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। গাজাবাসীর এখন জরুরি ভিত্তিতে সাহায্য প্রয়োজন।"
এদিকে বিশেষজ্ঞরা সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, গাজা উপত্যকার পুনর্গঠনে ৭৭০ কোটি ডলার প্রয়োজন।
ইআর





