রাশিয়ায় রবিবারের বিক্ষোভের পর যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার দাবি জানিয়েছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) এবং যুক্তরাষ্ট্রের। সেখানে কয়েক শত মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আন্দোলনকারীদের নির্ভয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার অধিকার রয়েছে।

রবিবার বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রী মেদভেদেবের পদত্যাগ দাবি করে। রাশিয়ার প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা অ্যালেক্সি নাভালনি, যিনি আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন তাকে গ্রেফতারের পর সোমবার আদালতে হাজির করা হয়। নাভালনি বলেন, আদালতের উচিত্ আন্দোলনের মূল কারণ হিসেবে মেদভেদেভকে আদালতে হাজির করা। রবিবারের বিক্ষোভে রাশিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেয়। সেন্ট পিটার্সবার্গ, ভ্লাদিভস্তক, নভোসিব্রিস্ক, তমস্কসহ কয়েকটি শহরে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়।

রাশিয়ায় অন্তত ৫ শত বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সরকারের অনুমতি ছাড়াই মিছিলগুলোর আয়োজন করা হয়েছিল। টিভি চ্যানেলগুলোতে দেখা গেছে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিচ্ছে পুতিন ক্ষমতা ছাড়ো, পুতিন ছাড়া রাশিয়া চাই, পুতিন একজন চোর। ২০১১ সালের সরকার বিরোধী বিক্ষোভের পর এটি রাশিয়ায় সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের একজন মুখপাত্র বলেন, জনগণের মত প্রকাশের যে মৌলিক স্বাধীনতায় স্বীকৃতি দিয়েছে রাশিয়ার সংবিধান তাতে হস্তক্ষেপ করেছে রুশ সরকার। ইইউ’র মুখপাত্র বলেন, রুশ সরকার বহি:বিশ্বের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সে অনুযায়ী বিলম্ব না করে গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি দেয়ার আহবান জানাচ্ছি।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মার্ক টোনার বলেন, আর দশটি দেশের মানুষের মত রাশিয়ার জনগণেরও অধিকার আছে মত প্রকাশের, জবাবদিহিমূলক সরকার পাওয়ার এবং নির্ভয়ে অধিকার ভোগ করার।

রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মেদভেদেভের বিলাসবহুল বাড়ি, প্রমোদতরী এবং খামার বাড়ি সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর সারাদেশে আন্দোলনের ডাক দেয় বিরোধী দলীয় নেতা নাভালনি।
বিবিসি