পাঠানকোট-কাণ্ডে নিহত পাকিস্তানি সন্ত্রাসীদের পরিচয় প্রকাশ করল ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। এনআইএ এই চার জঙ্গির নাম-পরিচয়সহ সবকিছু পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলের (জেআইটি) হাতে তুলে দিয়েছে।

 

ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থার আশা, সীমান্ত পার থেকে যারা এই জঙ্গিদের নাশকতায় সাহায্য করে এসেছে, পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ তাদের গ্রেপ্তারে উদ্যোগী হবে।

 

চার জঙ্গির নাম নাসির হুসেন, হাফিজ আবু বকর, ওমর ফারুক ও আবদুল কায়ুম। এঁদের দুজনের বাড়ি পাঞ্জাব, বাকি দুজনের সিন্ধু প্রদেশে। এই চারজন যাঁদের হুকুমে ভারতে এসে পাঠানকোট বিমানবাহিনীর ঘাঁটি আক্রমণ করেন, তাঁদের পরিচয়ও এনআইএ প্রকাশ করে জেআইটির হাতে তুলে দেয়।

 

এই জঙ্গি ও তাঁদের পরিচয় কীভাবে পাওয়া গেল এনআইএর মহাপরিচালক শরদ কুমার তা বিস্তারিত না জানাতে চেয়ে বলেছেন, গত তিন মাস অক্লান্ত পরিশ্রম ও নানা পর্যায়ে পেশাদারি দক্ষতায় তদন্তের পর এই তথ্য সংগৃহীত হয়েছে। শরদ কুমারের কথায়, নিহত জঙ্গিদের পরিচয় চূড়ান্ত। তাঁদের ছবিও সংস্থার ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ তাঁদের শনাক্ত করতে পারে।

 

জঙ্গিদের ‘হ্যান্ডলার’ বা চালকেরাও পাকিস্তানি। তাঁদের একজনের নাম কাসিফ জান, যিনি খাইবার পাখতুনখাওয়ার বাসিন্দা। অন্যজন শাহিদ লতিফ, বাড়ি পাঞ্জাবের গুজরানওয়ালায়। এনআইএর দাবি, শাহিদ লতিফ ভারতের কাশ্মীরে ধরা পড়ে ১০ বছর জেল খেটেছিলেন। তারপর তাঁকে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়। শরদ কুমার জানিয়েছেন, জেআইটি সদস্যরা বলেছেন, ভারতের পত্রিকায় যেদিন থেকে কাসিফের নাম বেরোতে শুরু করে তারপর থেকেই তিনি লাপাত্তা।

 

ভারতের আশা, জেআইটিকে যেমন ভারতে তদন্ত করতে আসার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, এনআইএকেও পাকিস্তান সেই সুযোগ দেবে। সেই সুযোগ পেলে ভারত জইশ-ই-মোহাম্মদের নেতা মাসুদ আজহার, তাঁর ভাই ও হাফিজ সাঈদকে জেরা করতে চাইবে। তবে সেই সুযোগ ভারত পাবে কি না সন্দেহ। নিহত জঙ্গিদের স্বরের নমুনাও জেআইটির হাতে এনআইএ তুলে দিয়েছে। দেওয়া হয়েছে টেলিফোনে কথাবার্তার নমুনাও। জইশ-ই-মোহাম্মদকে টাকাকড়ি দিয়ে যে সংস্থা সাহায্য করে, সেই আল রহমত ট্রাস্টে তদন্ত চালানোর জন্য জেআইটিকে বলা হয়েছে।

 

সরকারি সূত্রের খবর, জেআইটির পক্ষ থেকে ভারত সরকারের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে ভিসার মেয়াদ দিন কয়েকের জন্য বাড়াতে। যাতে তাঁরা আগ্রা ও আজমির শরিফ যেতে পারেন। কিন্তু নিরাপত্তার স্বার্থে তা সম্ভব হবে কি না, সে বিষয়ে সংশয় রয়েছে।

 

এমআইএস।