গত শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চের দু’টি মসজিদে জুমার নামাজের সময় খ্রিস্টান জঙ্গির সশস্ত্র হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছে। এক সপ্তাহ পর আবারও ওই দুই মসজিদে জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হলো। সেই নামাজ সরাসরি সম্প্রচার করে মুসলিমদের প্রতি সংহতির নজির স্থাপন করলো নিউ জিল্যান্ড। একইসঙ্গে রাষ্ট্রীয়ভাবে দুই মিনিট নীরবতাও পালন করা হয়েছে।

এতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডার্নসহ হাজার হাজার মানুষ সংহতি প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আর্ডান বলেন, “আপনাদের সঙ্গে পুরো নিউ জিল্যান্ডই ব্যাথিত। আমরা সবাই এক।”

স্থানীয় সময় শুক্রবার (২২ মার্চ) বেলা ১টা ৩২ মিনিটে নিহতদের স্মরণে ২ মিনিটের নীবরতা পালন করা হয়।

আল নুর মসজিদের জামাল ফুদা কয়েক শ মুসল্লির উদ্দেশ্যে আবেগময় ভাষণ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “নিউজিল্যান্ড ভাঙার নয়, আমাদের হৃদয় ভেঙে গেছে, কিন্তু আমরা ভেঙে যাইনি। আমরা সবাই এক। আমাদের দৃঢ় হতে হবে যে, কেউ আমাদের বিভক্ত করতে পারবে না।”

আল নুর মসজিদের উল্টো পাশে হাগলে পার্কে আজ জুমার নামাজের ব্যবস্থা করা হয়।

গত শুক্রবার (১৫ মার্চ) নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের ২টি মসজিদে (আল নুর ও পার্শ্ববর্তী লিনউড মসজিদ) সশস্ত্র হামলা চালায় খ্রিস্টান ধর্ম অনুসারী এক অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক। সেমি অটোমেটিক অস্ত্র দিয়ে নির্বিচারে গুলি চালায় অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত উগ্রবাদী জঙ্গি ব্রেনটন টারান্ট।

নামাজরত মানুষের ওপর স্বয়ংক্রিয় মেশিনগানের গুলিতে অন্তত ৫০ জন নিহত হয়। সেইসঙ্গে ৬০ জনের বেশি আহত হয়, যাদের অনেকের অবস্থা গুরুতর।

স্থানীয় গণমাধ্যম নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড বলছে, ক্রাইস্টচার্চের দু’টি মসজিদে হামলায় নিহতদের সম্মানে হাগলে পার্কে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হন। সেইসঙ্গে নিস্তদ্ধ নিউজিল্যান্ডের লাখ লাখ মানুষ ও গোটা বিশ্ব।

ইমাম জামাল ফুদা তার ভাষণে বলেন, “আপনাদের হাকার (বিশেষ উদ্দেশ্যে ড্যান্স) ধন্যবাদ, আপনাদের ফুলের জন্য ধন্যবাদ।”

গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, ইমাম যখন ভাষণ দেন তখন তার সামনে উপস্থিত ছিলেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডার্ন ও বিখ্যাত রাগবি তারকা সনি বিল উইলিয়ামস-সহ হাজার হাজার জনতা।

রেডিও নিউজিল্যান্ডের খবরে বলা হয়েছে, জুমার নামাজ রেডিও ও টেলিভিশনে লাইভ প্রচারের পাশাপাশি বড় বড় স্ক্রিনে তা দেখানো ব্যবস্থা করা হয়, যাতে জনগণ দেখতে পারেন আসলে সেখানে কী হচ্ছে।

আল নূর মসজিদের সামনে হেগলি পার্কে জড়ো হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। সেখানে যোগ দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আর্ডান। তিনি বলেন, “আপনাদের সঙ্গে পুরো নিউ জিল্যান্ডই ব্যাথিত। আমরা সবাই এক।”

এছাড়া দেশের অন্যান্য মসজিদও সব ধর্মালম্বী মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। মসজিদগুলোর সামনে ভালোবাসা ও সুরক্ষার প্রতীক হিসেবে মানববন্ধন করবেন নিউ জিল্যান্ডবাসী।

এমবি