শনিবার (২৫ জুলাই) ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এ দাবি করেছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা ও মেহের নিউজ এজেন্সি।

শনিবার (২৫ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি বলেন, ৮ জুলাই থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত ১৫ দিনের লড়াইয়ে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে অবস্থানরত ১১টি মার্কিন যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার ধ্বংস করেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী।

তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের হামলায় মোট ১৭টি নজরদারি ও অপারেশনাল ড্রোন ধ্বংস হয়েছে, যার মধ্যে ৮টি ছিল আনপ্যাকড (সংযোজনের অপেক্ষায় থাকা) ড্রোন।

এ ছাড়া, একটি এফ-১৫ (F-15) যুদ্ধবিমান, যা একটি হ্যাঙ্গারের ভেতরে ছিল, একটি পি-৮ (P-8) সামুদ্রিক টহল বিমান, একটি সি-১৭ (C-17) পরিবহন বিমান এবং ৮টি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী (ট্যাংকার) বিমান ধ্বংস করারও দাবি করেছে আইআরজিসি।

তবে, আইআরজিসির এসব দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে কোনো যাচাই বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা তথা নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে মতানৈক্যের জেরে চলতি মাসে ফের সংঘাতে জড়িয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। গত ৮ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে (MoU) উল্লেখিত যুদ্ধবিরতি আর কার্যকর নেই।

এরপর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। এর ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফা বিমান হামলায় ৫৯ জন নিহত এবং ৫৯২ জন আহত হয়েছেন। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ ও তথ্যকেন্দ্রের প্রধান হোসেইন কারমানপুর এ তথ্য জানিয়েছেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে মেহের নিউজ এজেন্সি।

আগের দফায় ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত মার্কিন হামলায় ইরানে মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হন।

এনএইচ