যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসন বিষয়ে তদন্তের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাট নেতাদের অভিযোগ তিনি একজন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর ক্ষতি করতে একটি বিদেশি শক্তির সহায়তা চেয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) স্পিকার ন্যান্সি পেলসি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ‘প্রেসিডেন্টকে অবশ্যই জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।’

তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে ডেমোক্র্যাটদের এমন পদক্ষেপকে ‘আবর্জনা’ বলে উল্লেখ করেছেন।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অভিশংসনের আওতায় আনতে ডেমোক্র্যাটরা শক্ত অবস্থান নিলেও, এ বিষয়ে তদন্তকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে সিনেটে প্রস্তাবটি পাস হতে হবে। কিন্তু রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত সিনেটে প্রস্তাবটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

ইউক্রেনের নতুন প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনেস্কির সঙ্গে গত জুনে ফোনালাপ করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ওই ফোনালাপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তাঁর ছেলে হান্টারের বিরুদ্ধে তদন্ত করার আহ্বান জানান বলে অভিযোগ উঠেছে।

মার্কিন গণমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকার প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, জো বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেন যে ইউক্রনের একটি গ্যাস কোম্পানিতে উচ্চ বেতনে কাজ করতেন সে বিষয়ে তদন্ত করার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে প্রতিরক্ষা সহায়তা দেবে বলে জানান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

এ ছাড়া ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, জো বাইডেন ও তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ তদন্ত না করলে ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেওয়া বন্ধ করারও হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

এদিকে ফোনালাপের বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পর থেকেই এ ঘটনার তদন্ত দাবি করেছেন জো বাইডেন। তিনি ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলের একজন শক্তিশালী প্রার্থী।

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বাইডেনকে নিয়ে আলাপের কথা স্বীকার করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে নির্বাচন নিয়ে তাঁদের মধ্যে কোনো কথা হয়নি দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আজ বুধবার ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর জুলাইমাসের ফোনালাপের সম্পূর্ণ ট্রান্সক্রিপ্ট প্রকাশ করবেন বলে জানিয়েছেন।

এমআর