“ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) থাকতে একশ’জন মমতা এলেও পশ্চিমবঙ্গকে বাংলাদেশ বানাতে পারবে না” বলে মন্তব্য করেছেন ভারতে বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাহুল সিনহা।

আজ (শুক্রবার) পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতায় দলীয় এক সমাবেশে তিনি ওই মন্তব্য করেন।  সংখ্যালঘু মুসলিমদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আমরা আপনাদের মর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক করতে চাই, ভোটার বানাতে চাই না।”

রাহুল সিনহা বলেন, “এ রাজ্য হিন্দু-মুসলিম-শিখ-খ্রিস্টান সকলের কিন্তু এখানে বিভিন্ন ধর্ম নিয়ে আলাদা আলাদা লোকাচার করা হচ্ছে। এ জিনিস বরদাস্ত করা যায় না।”

বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আজ মুসলিমদের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতার হিজাব পরা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেন। 

তিনি বলেন, “হয় আপনি হিজাব পরে আছেন, নয়তো বোরখা পরে আছেন, অথবা হাত তুলে আল্লাহকে ডাকছেন অথবা নামাজ পড়ার তামাশা করছেন।”   

রাহুল সিনহা বলেন, “এখানে যদি কোনো মুসলিম থেকে থাকেন তাহলে বুকে হাত দিয়ে বলুন, হিন্দু হয়ে কেউ মুসলিম সাজার নাটক করলে আল্লাহ্ তার কী শাস্তি বিধান করবেন?”

বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দাবি, “হাদিস বলছে, অন্য কোনো ধর্মের মানুষ নামাজ পড়তে পারে না, রোজা রাখতে পারে না। যদি এ কাজ কেউ কেউ করে সে মুসলিমদের সবচেয়ে বড় শত্রু। সুতরাং আপনারা বলুন মুসলিমদের সবচেয়ে বড় শত্রু কে?”

আজ তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেয়া মুকুল রায় তার ভাষণে প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন,আগামীদিনে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচনে বিজেপি ক্ষমতায় আসবে।

পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, “কোললকাতায় মিটিং-মিছিল করতে দেয়া হচ্ছে না। কিন্তু রোহিঙ্গাদের  নাগরিকত্বের জন্য মিছিল হচ্ছে। পুলিশ নিরাপত্তা দিচ্ছে। দেখে লজ্জা হয়! মদ খেয়ে মারা গেলে এখানে দু’লাখ টাকা দেয়া হয়। হজ করলে দশ লাখ টাকা। কী ধরণের তোষণ এটা? দুর্গাপুজোর বিসর্জনে সমস্যা, সরস্বতী পুজো বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। আমরা কি এই বাংলাই চেয়েছিলাম?”

রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ‘দুর্নীতি’ ও ‘গণতন্ত্র হত্যা’র অভিযোগে বিজেপি’র পক্ষ থেকে আজ প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়। এতে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা কৈলাস বিজয়বর্গিয়সহ অন্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

রাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রী ও তৃণমূলের সিনিয়র নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায় সাবেক তৃণমূল নেতা মুকুল রায়ের বিজেপিতে যোগ দেয়া ও তার সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কৌতুক বলে অভিহিত করেছেন।

তিনি বলেন, গতকাল পর্যন্ত যিনি একরকম কথা বলেছেন, আজ তিনি অন্য কথা বলছেন।’ তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যাওয়াকে তিনি ‘ডিগবাজি’ বলে কটাক্ষ করেন।

এমবি