প্রায় চার হাজার কোটির জালিয়াতিতে অভিযুক্ত শিল্পপতি বিক্রম কোঠারিকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই।

কলম প্রস্তুতকারক সংস্থা রোটোম্যাক গ্লোবাল প্রাইভেট লিমিটেডের মালিক বিক্রম কোঠারি। কলম তৈরি ছাড়াও একাধিক ব্যবসা রয়েছে বিক্রম কোঠারির।

সোমবার বিক্রমের বাড়িতে হানা দেয় সিবিআই। ভোর ৪টা থেকে তল্লাশি শুরু হয়। বিক্রমের স্ত্রী, ছেলেকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কানপুরে কোঠারির তিনটি ঠিকানায় তল্লাশি চলছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর, ব্যাংক অব মহারাষ্ট্র, ওরিয়েন্টাল ব্যাংক অব কমার্স, এলাহাবাদ ব্যাংক, ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, ব্যাংক অব বরোদা, ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক অব ইন্ডিয়াসহ মোট সাতটি ব্যাঙ্কের কনসোর্টিয়ামকে ঠকিয়েছেন কোঠারি। ঋণের নামে ২৯১৯ কোটি টাকা লুঠ করেছেন। সুদ সমেত যার পরিমাণ ৩৬৯৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক অব বরোদা থেকেই ৮০০ কোটা টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ব্যাংক অব বরোদার অভিযোগ, এক পয়সাও ফেরত দেননি কোঠারি।

ঋণের টাকা শোধ না করেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন তিনি এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই গতকাল রাতে বিক্রম নিজই সেই খবর নাকচ করেন। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এফআইআর রুজু করে আটক করে তাকে সিবিআই।

গত সপ্তাহে কানপুরের মল রোডে তার যে অফিস রয়েছে সেখানে তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। গুঞ্জন ছড়ায় ঋণের টাকা শোধ না করেই পালিয়েছেন কোঠারি। কিন্তু রবিবার রাতেই তাকে একটি বিয়েবাড়িতে দেখা যায়। বিক্রম বলেন, ‘আমি মোটেই দেশ ছেড়ে পালাইনি। কানপুরেই আছি। আর এটা কোনো কেলেংকারি নয়। ব্যাঙ্ক আমার সংস্থাকে ঋণখেলাপি সংস্থা বলে ঘোষণা করেছে। বিষয়টা এখন বিচার বিভাগের আওতায় আছে। ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইবুন্যালে মামলা চলছে। আমি ঋণ নিয়েছি। শিগগির সেই টাকা শোধ করব।

তবে তার সে দাবির সত্যতা মিলছে না। কারণ ঋণ শোধ না করায় ব্যাংক অব বরোদা ২০১৭ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি রোটোম্যাককে ‘ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি’ সংস্থা বলে ঘোষণা করেছিল। কোঠারি মামলা ঠোকেন এলাহাবাদ হাইকোর্টে। টাকা আদায়ের জন্য ব্যাংক গত বছর একাধিকবার বিক্রম কোঠারি এবং তার পরিবারের সদস্যদের সম্পত্তি নিলামে তুলেছে।

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর আমলে সেরা রফতানিকারকের সম্মান পেয়েছিলেন শিল্পপতি বিক্রম কোঠারি।