শৈশব- কৈশরের স্মৃতিগুলো এখনো হয়তো হাতড়িয়ে বেড়ান। স্কুল জীবনের দূরান্তপনার কথাগুলোও হয়তো ভুলে যাননি। চোখের সামনেই বেড়ে উঠতে দেখেছেন খেলার সাথীদের। বেড়ে উঠেছেন নিজেও।

শৈশব পেরিয়ে কৈশর। তারপরেই তরুণ। একসময় খুঁজে পেয়েছেন জীবন সঙ্গীকে। পেয়েছেন সন্তান-সন্ততির আদর আর ভালবাসা। মন ভরিয়েছেন বাবা ডাক শুনে। ছেলে-মেয়েরা বড় হয়েছে। বিয়েও দিয়েছেন তাদের। একসময় তারও বাবা-মা হয়েছেন।

কালের আবর্তনে তারুণ্যকে ছাপিয়ে তার জীবনে এসেছে বার্ধক্য। কোন একসময় হারিয়েছেন নিজের প্রাণপ্রিয় জীবনসঙ্গীকে। ধীরে ধীরে কমে এসেছে বেঁচে থাকার আশা। তবুও বেঁচে আছেন। চোখের সামনেই না ফেরার দেশে চলে গেছে প্রিয় সন্তানেরা। তার পর নাতী-নাতনীরাও।

প্রতিটি মৃত্যুই তার নিজের মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। তাই নিজেও প্রস্তুতি নিয়েছেন না ফেরার দেশে চলে যাবার। অপেক্ষায় আছেন নিজের মৃত্যুর সেই দিনটির। কিন্তু সে দিনটি তার আজও আসেনি। কাছে আসেনি যমদূত। তাই মৃত্যুকে নিয়ে আজ তিনি হতাশ।

১৭৯ বছর ধরে মৃত্যুর অপেক্ষায় থেকে হতাশ এই ব্যক্তির নাম মহাস্টা মুরেসি। ১৮৩৫ সালে বেঙ্গালুরুতে তার জন্ম। শুধু বেঙ্গলুরু নয়, সমগ্র বিশ্ব। এমনকি সমগ্র মানবজাতিতেও নাকি ১৭৯ বছরের এই বৃদ্ধ প্রবীণতম। তার  নাম রয়েছে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডেও।

এমনটাই দাবি ওয়ার্ল্ড নিউজ ডেইলি রিপোর্ট ডট কমের।তবে এ খবরের সত্যতা কতটা, তা তর্কযোগ্য। ওয়েবসাইটটি জানিয়েছে, মুরেসি নাকি এখন দুঃখ করে বলেন, ‘আমার চোখের সামনে আমার নাতি-নাতনিরা মারা গিয়েছে। কিন্তু আমাকে মৃত্যু গ্রাস করেনি। আমি তাই মরার আশা ছেড়ে দিয়েছি।'  ১৭৯ বছরের এই বৃদ্ধ আক্ষেপ করে বলেছেন, 'যমে বোধহয় আমাকে নিতে ভুলে গিয়েছে।'

এআর